দেশের সর্ববৃহৎ জেলা রাঙামাটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ফিলিস্তিন ও ইরানসহ মুসলিম দেশগুলোতে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৭.৪৫ মিনিটে জেলার প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় শহরের বনরূপা আদালত ভবন প্রাঙ্গণে।
জামাতে ইমামতি করেন বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মৌলানা আশহাদুল ইসলাম।
এতে রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট তোফাজ্জল হোসেন হিরু, রাঙামাটি পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল আলীম ও সেক্রেটারি মনছুরুল হক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা অংশ নেন।
এছাড়া জেলা শহরের ১০টি স্থানে মোট ১৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫টি স্থানে দুটি করে ১০টি জামাত এবং অন্য ৫টি স্থানে একটি করে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাতটা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে এসব ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলাসহ রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলায় ২০৪টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে ২২টি খোলা মাঠে এবং ১৮২টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, আমাদের আহ্বান থাকবে যে, রাঙামাটিতে বসবাসকারী সব ধর্মের-বর্ণের মানুষ শান্তি, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য নিয়ে বসবাস করবেন। আমরা চাই এই পার্বত্য জনপদের প্রতিটি মানুষ একজন আরেকজনের কল্যাণে কাজ করুক, সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করুক, ভালোবাসা নিয়ে বসবাস করুক। আমাদের বন্ধনটা হোক আত্মার বন্ধন, আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।
ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ঈদগাহ, মসজিদ এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সব জায়গায় পুলিশি নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং টহল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান/অমিয়/