লোডশেডিংয়ের কারণে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের জন্য জেনারেটর চালুর প্রয়োজন পড়ছে। কিন্তু এক মাস ধরে জেনারেটরটি বিকল হয়ে আছে। এতে দিনের একটি বড় সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলস বসে থাকছেন। সেবাপ্রার্থীরাও দপ্তরটিতে বসে বিদ্যুতের অপেক্ষা করছেন।
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এখানে ৭০ থেকে ১০০টি পাসপোর্টের আবেদন নেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও ৭০ থেকে ৮০টি নতুন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়ে থাকে। আবেদন গ্রহণের সব কটি ধাপ বিদ্যুৎ ছাড়া সম্পন্ন করা যায় না। নতুন পাসপোর্ট সরবরাহের ক্ষেত্রেও কম্পিউটার চালাতে বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় সবকিছু থমকে যায়।
পাসপোর্ট করতে আসা কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা গ্রামের মনসুরা বেগম বলেন, ‘চিকিৎসা, বিদেশে চাকরি, পড়াশোনা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য পাসপোর্ট একটি প্রয়োজনীয় নথি। এখানে পাসপোর্ট করতে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই। তাই ফিরে যেতে হচ্ছে। এখানে বিদ্যুতের দুটি সংযোগের পাশাপাশি জেনারেটর সচল থাকা উচিত ছিল।’
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক নুরুল হুদা সেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শহরে একাধিক ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। জরুরি সেবাদানকারী অফিসগুলোতে দুটি ফিডারের সংযোগ থাকে। এতে এক ফিডারে লোডশেডিং থাকলে অন্য ফিডারের বিদ্যুৎ দিয়ে অফিসের কাজ করা হয়। আমাদের অফিসও জরুরি সেবার আওতায় পড়ে। আরও একটি ফিডারের সংযোগ চেয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গোপালগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেছি। দুটি সংযোগ থাকলে অফিসের কাজে গতি আসবে। এ ছাড়া আমাদের অফিসের জেনারেটর সমস্যার সমাধান চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি।’
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের গ্রাহক রয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি। এসব গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সেবা দিতে চাহিদা রয়েছে ১৬ মেগাওয়াটের। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১১ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় ১ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’