ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
Nagad desktop

সীতাকুণ্ডে সরকারি চালের বস্তাবদল, ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১০:৩০ এএম
সীতাকুণ্ডে সরকারি চালের বস্তাবদল, ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় একটি বন্ধ কার্পেট তৈরির কারখানার গুদামে অভিযান চালিয়ে ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ করেছে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি দল।

বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত র‌্যাব-৭ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে সরকারি খাদ্যগুদামের চালের বস্তা পাওয়া যায়। এসব চাল বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডের বস্তায় প্যাকেটজাত করা হতো এ গুদামে। তবে কীভাবে সরকারি চাল এই গুদামে এসেছে তা জানা যায়নি।

অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে ও সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় আব্দুল আজিজ নামের একজনকে আটক করা হয় এবং সিলগালা করা হয় গুদামটি।

র‍্যাব –৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সালেহ কার্পেট কারখানার ভেতরের গুদামে অভিযান চালান। তারা খবর পেয়েছিলেন, ভেতরে চাল গুদামজাত করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র।

এ সময় গুদামের ভেতর গিয়ে দেখতে পান, সরকারি চাল বস্তা থেকে খুলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে রাখা হচ্ছে। আটক আব্দুল আজিজ গুদামজাত করার কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। ফলে চালগুলো তারা জব্দ করেছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে বলেন, গুদামজাতকারীর খাদ্য গুদামজাতকরণের কোনো লাইসেন্স নেই। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর দেওয়া। তা থেকে প্রমাণ হয়, সেগুলো খাদ্য অধিদপ্তরের গুদাম থেকে বেরিয়েছে। এখন কীভাবে এই চাল বেরিয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখবেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, গুদামে খাদ্য অধিদপ্তরের মোড়কে ১ হাজার ১৭২ বস্তা চাল রয়েছে। যার কোনো কাগজপত্র আটক ব্যক্তি দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া একটি কারখানার ভেতরে এভাবে চাল গুদামজাত করার জন্য সরকারি কোনো লাইসেন্স তিনি দেখাতে পারেননি।

গুদামে বিভিন্ন মোড়কে বস্তায় ৫২০ টন চাল রয়েছে। এখন সেগুলো সরকারি চাল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুদামটি সিলগালা করে পুলিশের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ মামলা করবে বলে জানান তিনি।

র‍্যাবের হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, অবৈধ চাল বিক্রির সঙ্গে বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা তারা তদন্ত করে দেখছেন।

তাছাড়া কবে চালগুলো বেরিয়েছে, কোন গুদাম থেকে বেরিয়েছে, সেগুলো তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। এই মুহূর্তে বলা যাবে না। এ বিষয়ে তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আপাতত সিলগালা করে সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

মুসলেহ উদ্দীন/আমান

বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মেঘুল্লা এলাকায় বাসচাপায় একটি অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও এক যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা এক্সপ্রেস বাস একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে ভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও এক যাত্রী। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

ওসি আবু জাফর আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বর্তমানে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। 

সিরাজুল ইসলাম/নাঈম

বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় গত বুধবার (৩ জুন) ও গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ১০ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ জন, গাইবান্ধা ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং চুয়াডাঙ্গায় ১জন নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আতাহার এলাকার আব্দুল্লাহ (১৪), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাগি বাজারপাড়ার সাহিদা খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণ পাড়ার মো. মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাপড়া গ্রামের সুমি আরা (৪০)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বাড়ির পাশে গরু আনার জন্য মাঠে গিয়েছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, ঝড়-বৃষ্টির সময় বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মাহমুদা বেগম, সাহিদা খাতুন ও মেসবাউলের মৃত্যু হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, গতকাল বিকেলে মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমি আরার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুর রাকিব আহত হয়েছেন।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় খড় তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী (৫৫) ও ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)।

এলাকাবাসী জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন সোহাগ চন্দ্র দাস। সন্ধ্যায় ঝোড়ো বাতাস, হালকা বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাতের মধ্যে খড় তুলতে গেলে মা-ছেলে দুজনই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রৌহারচর গ্রাম ও গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন মধ্য লামকাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মুক্তাগাছা উপজেলার রৌহারচর গ্রামের খালেকুল আজাদ (৬০) এবং গফরগাঁও উপজেলার মধ্য লামকাইন গ্রামের সিয়াম খান (২৮)। খালেকুল আজাদ স্থানীয় গাবতলী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকালে হাঁটাহাঁটির সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান খালেকুল আজাদ। অন্যদিকে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সিয়াম খান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল হাসান এবং পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বজ্রপাতে শান্ত (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাহিদ নামের আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার নান্দবার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার আগে ঝোড়ো হাওয়ার সময় শান্ত ও নাহিদ বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে কাছের একটি গাছে আগুন ধরে যায়, এতে একই সঙ্গে দুজনই আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শহরেই বেশি হামের প্রকোপ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
শহরেই বেশি হামের প্রকোপ
চমেক হাসপাতালের হাম ব্লকে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: খবরের কাগজ।

চট্টগ্রামে হাম আক্রান্তের হার কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। রোগটির উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু।

দেখা দিচ্ছে নিউমোনিয়া সহ নানা জটিলতা। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার তুলনায় নগরে এই রোগের উপসর্গ বেশি দেখা দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১২ জন।  

চিচিকৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রামে হামের টিকা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ দেওয়া হয়েছে। এই টিকা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে কমপক্ষে চার সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি একটি রোগ যখন মহামারী আকার ধারণ করে সেটার প্রকোপ কমতে একটু সময় লাগে। হাম আক্রান্ত একজন শিশু থেকে ১৮ জনের শরীরে রোগটি ছড়ায়। তাই শিশুদের ভিটামিন ও প্রোটিনসম্বৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি সচেতনতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে ১ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে হাম উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের চিকিৎসা চলছে। ওয়ার্ডটিতে থাকা ৮০টি বেডের কোনটিই খালি নেই। সেখানে অবস্থানরত শিশুরা গায়ে র্যাশ ও জ্বরে ভুগছে। শ্বাসকষ্ট হলে শিশুদের দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য ২০টি আইসিইউ রয়েছে, এরমধ্যে ১৫টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রামে মার্চের পর থেকেই হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গত দুই মাসের (এপ্রিল ও মে) হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর হার যাচাই করেছে খবরের কাগজ। সেখানে দেখা গেছে, এপ্রিলে হামের উপসর্গ নিয়ে নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০০ শিশু, পাশাপাশি উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ জন। মাসটিতে গড়ে নগরে প্রতিদিন ২৩ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

তবে মে মাসে সবচেয়ে বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মে মাসে শিশুদের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার হার এপ্রিলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি। এপ্রিলে নগরের ৭০০ শিশুর শরীরে হামের উপাসর্গ দিখো দিয়েছে। আর মে মাসে নগরের ১ হাজার ৩৭৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া মাসটিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৬৬ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গহ দেখা দেয়। এই মাসে নগরে গড়ে প্রতিদিন ৪৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যায়। 

জুন মাসেও আক্রান্তের হার কম নয়। গত ১ জুন নগরে ৫৩ ও উপজেলায় ২ জন, ২ জুন নগরের ৪৩ জন ও ৩ জুন নগরের ৬০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ৩ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে নগরের ২ হাজার ২৭৪ জন ও উপজেলার ৯১ জন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৭৬ জন। চট্টগ্রাম থেকে এখন পর্যন্ত নগর ও উপজেলা মিলিয়ে ১ হাজার ৪১৮ জন শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে মারা গেছে নয় জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন জন। 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে নগর ও উপজেলা মিলে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে আমাদের হামের রোগী কমে গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাঙ্গমাটি, বান্দরবন থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চমেক বা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আসছে। এ কারণে নগরে বেশি দেখা যাচ্ছে। একটা রোগ মহামারী আকার ধারণ করলে সেটা কমে আসতে দুই-তিন মাস সময় লাগে। আশা করি হাম আক্রান্তের হার দ্রুত কমে যাবে। 

টিকা দেওয়ার পরেও কেউ হামে আক্রান্ত হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকা দেওয়া হয়েছে, তবে এটার পুরো ফল পেতে আমাদের কয়েকমাস সময় লাগবে। যেহেতু এন্টিবডি তৈরি হতে কয়েক মাস সময় লাগে। তবে কিছু ফল পেতে শুরু করেছি। তবে বড়দের ক্ষেত্রে নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা, হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা জরুরি। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভীড় এড়িয়ে চলতে হবে, যেসব বাড়িতে হাম হচ্ছে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর শিশুকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার দিতে হবে। অন্তত দেড় মাস চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই জায়গায় কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

তারেক মাহমুদ/এসএন

মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে যমজ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. নোমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর প্রায় ১৫ দিন আগে তার যমজ ভাই মো. ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারা যাওয়া দুই শিশুর বয়স ছিল ১৩ মাস।

ফাহিম ও নোমান উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন উর রশিদের সন্তান। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা।

শিশু দুটির বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, ‘সরকারিভাবে যখন বিভিন্ন এলাকায় হামের টিকাদান কর্মসূচি চলছিল, তখন আমি আমার দুই শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান টিকা শেষ হয়ে গেছে। পরে আর টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছুদিন পর আমার বড় ছেলে ফাহিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাহিমের মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা জানান নোমানের অবস্থাও ভালো নয়, তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করাই। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে নোমানও মারা যায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার দুই সন্তানকে হারালাম। কোনোভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছি না।’

স্থানীয় তাকিয়াপাড়া নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কাউসার বলেন, ‘বড়তাকিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদের যমজ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের টিকা সংরক্ষণ করা হয়।’

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত থাকে।’

টিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইকবাল হোসেন/সালমান/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে সালিশ বৈঠকে এক যুবককে হাত-চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া (৪০) নারুই গ্রামের মৃত রহমতের ছেলে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারুই গ্রামের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুপুরে নারুই বাজারে সালিশ বৈঠকে বসে এলাকার মাদক নির্মূল কমিটি। বৈঠকে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে হবি মিয়াকে হাজির করে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। হবির মা ও তার স্ত্রীর সামনে চলে নির্যাতন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে সালিশে সবার মাঝখানে হবি মিয়াকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন এসে গামছা দিয়ে তার চোখ এবং দড়ি দিয়ে হাত বাঁধেন। এরপর তাকে মাটিতে বসিয়ে তার হাত ও পায়ের ভেতর পাইপ ঢুকানো হয়। এ সময় আরেকজন এসে তাকে মাটিতে শুইয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে আরেকজন বোতল দিয়ে তাকে পানি পান করান। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। পরে দুইজন হবি মিয়াকে চেপে ধরে রাখেন এবং আরেকজন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করতে থাকেন।

নারুই গ্রামের বাসিন্দা মোকাররম, মোহসিন, তাজু ও হানিফ মেম্বারসহ আরও কয়েকজন মিলে হবি মিয়াকে নির্যাতন করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে নির্যাতন শেষে মাদক কারবারে জড়িত থাকবে না অঙ্গীকার নিয়ে হবি মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর থানার শিবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে নারুই গ্রামে যায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনে জড়িতরা পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, হবি মিয়া এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তবে এভাবে সালিশ বৈঠক করে তাকে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আজিজুল সঞ্চয়/সালমান/