চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় একটি বন্ধ কার্পেট তৈরির কারখানার গুদামে অভিযান চালিয়ে ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ করেছে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি দল।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত র্যাব-৭ ও খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সরকারি খাদ্যগুদামের চালের বস্তা পাওয়া যায়। এসব চাল বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডের বস্তায় প্যাকেটজাত করা হতো এ গুদামে। তবে কীভাবে সরকারি চাল এই গুদামে এসেছে তা জানা যায়নি।
অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে ও সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় আব্দুল আজিজ নামের একজনকে আটক করা হয় এবং সিলগালা করা হয় গুদামটি।
র্যাব –৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সালেহ কার্পেট কারখানার ভেতরের গুদামে অভিযান চালান। তারা খবর পেয়েছিলেন, ভেতরে চাল গুদামজাত করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র।
এ সময় গুদামের ভেতর গিয়ে দেখতে পান, সরকারি চাল বস্তা থেকে খুলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে রাখা হচ্ছে। আটক আব্দুল আজিজ গুদামজাত করার কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। ফলে চালগুলো তারা জব্দ করেছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে বলেন, গুদামজাতকারীর খাদ্য গুদামজাতকরণের কোনো লাইসেন্স নেই। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর দেওয়া। তা থেকে প্রমাণ হয়, সেগুলো খাদ্য অধিদপ্তরের গুদাম থেকে বেরিয়েছে। এখন কীভাবে এই চাল বেরিয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখবেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, গুদামে খাদ্য অধিদপ্তরের মোড়কে ১ হাজার ১৭২ বস্তা চাল রয়েছে। যার কোনো কাগজপত্র আটক ব্যক্তি দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া একটি কারখানার ভেতরে এভাবে চাল গুদামজাত করার জন্য সরকারি কোনো লাইসেন্স তিনি দেখাতে পারেননি।
গুদামে বিভিন্ন মোড়কে বস্তায় ৫২০ টন চাল রয়েছে। এখন সেগুলো সরকারি চাল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুদামটি সিলগালা করে পুলিশের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ মামলা করবে বলে জানান তিনি।
র্যাবের হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, অবৈধ চাল বিক্রির সঙ্গে বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা তারা তদন্ত করে দেখছেন।
তাছাড়া কবে চালগুলো বেরিয়েছে, কোন গুদাম থেকে বেরিয়েছে, সেগুলো তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। এই মুহূর্তে বলা যাবে না। এ বিষয়ে তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আপাতত সিলগালা করে সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
মুসলেহ উদ্দীন/আমান