দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহা. তৌহিদুল ইসলাম বিনা নোটিশে আট দিন ধরে কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে বোর্ডের প্রশাসনিক ও পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
চলমান এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুতসহ বাজেট অনুমোদন ও পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। হঠাৎ করে নোটিশ ছাড়া চেয়ারম্যানের এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
দিনাজপুর বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে বুকে ব্যথার কথা বলে চেয়ারম্যান রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন ১২ মে সন্ধ্যায় তিনি খুদে বার্তার মাধ্যমে বোর্ড সচিবকে ১৩ মে পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা স্থগিত করার নির্দেশ দেন। ওই সভার মূল আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল কম্পিউটার কেন্দ্রের জনবল নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদন।
বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ–চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে ঈদ বোনাস, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্জক্রম বন্ধ হয়ে আছে।
চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চলমান এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে আত্মগোপনে থাকা কতটা গ্রহণযোগ্য?
অন্যদিকে, বিদ্যালয় ও কলেজ কমিটির অনুমোদনসংক্রান্ত কাজ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদ-উল-করিম বাবু বলেন, ‘চলমান এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। হাজার হাজার শিক্ষকের মধ্যে উত্তরপত্র বিতরণ করতে হচ্ছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পুরো কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন, টেন্ডার ওপেনিং ও কার্যাদেশ প্রদানসহ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ স্থবির হয়ে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যথাসময়ে পরীক্ষা আয়োজন ও ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘চলমান এসএসসির প্রতিদিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো পরীক্ষার প্রায় ৩৫ মিনিট আগে সেট কোড লটারির মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো। সাধারণত এই দায়িত্ব চেয়ারম্যান নিজেই পালন করে থাকেন। কিন্তু তিনি গত আট দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান অসুস্থতার কথা বলে বোর্ডের নির্ধারিত মোবাইল ফোনটি জমা দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা চেয়ারম্যান ছাড়া পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর।’
দিনাজপুর বোর্ড সচিব প্রফেসর নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে বোর্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, অর্থ বরাদ্দ, কর্মচারীদের বিজি প্রেসে পাঠানো, আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন দিয়েও যোগাযোগ করছেন না। পরে একটি খুদে বার্তায় জানিয়েছেন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের ফাইল ঢাকায় পাঠাতে বলেছেন এবং সমন্বয় সভায় যোগ দিতে তাকে অফিশিয়াল আদেশ পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর তৌহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।