সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মুদি ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে শিশু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মব করে মারধরের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মারধরকারীরা দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় শনিবার (৩০ মে) মবের শিকার খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস বাদী হয়ে সিলেটের শাহপরান (রা.) থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সেনপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী মোসাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), ওহিদুল আলমের ছেলে আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে আকাশ আহমেদ (২০), মেয়ে মোসাম্মৎ রোজী আক্তার (২০), মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২২), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে শোয়েব (৩০), শিবগঞ্জ খড়াদিপাড়ার মখর মোল্লা লাক্কুর ছেলে নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), সেনপাড়ার কামাল (২৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫), অন্তরসহ (২৬) অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
এর আগে গত শুক্রবার (২৯ মে) রাত ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ এ এই মবের ঘটনা ঘটে।
সিলেট মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীলরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও তদন্ত করে প্রমাণিত হয়েছে যে, খগেন্দ্র চন্দ্র দাস কোনো শিশুকে নির্যাতন করেননি। শিশু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মব করে তাকে মারধর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাণী স্টোরে কোমল পানীয় কিনতে আসে আট বছর বয়সী এক শিশু। দোকানে ভিড়ের কারণে শিশুটির কেনাকাটায় কিছুটা দেরি হয়। এর জেরে শিশুটির মা ও বোন দোকানে এসে দোকানদারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এর কিছুক্ষণ পরই একদল লোক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। হামলাকারীরা দোকান থেকে টাকা ও সিগারেট লুট করে নেন। পরে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় দোকানদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষ। এলাকায় আমাদের কোনো শত্রু নেই। দোকানটি বাবা একলাই চালান। হঠাৎ আমার বাবার ওপর কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা হলো আমরা বুঝতে পারছি না। তবে বাবা বলেছেন যারা হামলা করেছে তাদের পরিবারের আরিফ নামের একজন কয়েকদিন আগে তার কাছে টাকা দাবি করেছিল।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, ‘সন্ধ্যার পর এক শিশু টাইগার (কোমল পানীয়) কিনতে আমার দোকানে আসে। এ সময় দোকানে ভিড় থাকায় আমি তাকে সরে যেতে বলি। পরে শিশুটি টাইগার নিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা-বোন এসে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকেন। এরমধ্যেই আচমকা কয়েকজন যুবক এসে আমাকে মারধর শুরু করে। মারধরকারীদের সবাইকে আমি চিনি না। তবে তাদের মধ্যে একজন কয়েকদিন আগে আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল।’
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, অভিযোগে উল্লিখিত শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব ও সন্দেহের ভিত্তিতে এই বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা। এ ঘটনায় শিশুটিকে ভিকটিম দেখিয়ে মব সৃষ্টি করে খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রকৃত ভিকটিম খগেন্দ্র চন্দ্র দাস। এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মব তারা কেন করছেন, সেটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে কোনো ভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
আজহার/অমিয়/