ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে বয়ে যেতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২ মাদককারবারিকে পুলিশে দিলো জনতা ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই: জুয়েনা শবনম টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি! গাংনী সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা ‘রকস্টার’ যেন মাদকের বিজ্ঞাপন নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ ৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫ অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে বেরোবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান
Nagad desktop

এক কৃষি কর্মকর্তার হাতে জিম্মি লাখো দরিদ্র কৃষক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০২:০৫ পিএম
এক কৃষি কর্মকর্তার হাতে জিম্মি লাখো দরিদ্র কৃষক
মোহাম্মদ বাছিরুল আলম

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার কৃষকরা যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানামুখী সংকট মোকাবিলায় লড়ছেন, তখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের প্রায় প্রতিটি খাতে নয়ছয় এবং অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতির চাষাবাদে মজেছেন- এমনটাই বলছেন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদারের বদলির পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্ব পান জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাছিরুল আলম। প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হয়েও উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জমতে থাকে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা থেকে হঠাৎ উপপরিচালক বনে যাওয়া বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। 

সবজি বীজ বিতরণে ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব বিরত চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার সঙ্গে যোগসাজশে শীতকালীন সবজি বীজ বিতরণের নামে ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। গত বছরের শেষ দিকে শীতকালীন সবজি উৎপাদনে সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ ৯ উপজেলার ৮ হাজার কৃষকের মাঝে হাইব্রিড বীজ বিতরণের উদ্যোগ নেয় কৃষি অধিদপ্তর। অভিযোগ পাওয়া গেছে, একটি কোম্পানির সঙ্গে গোপন চুক্তি করে ১ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা বীজের মূল্য ১ হাজার ৮০০ টাকা দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বাছিরুল আলম এবং জেলা পরিষদের দায়িত্ব বিরত চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। এতে প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মধ্যে ৪৪ লাখ টাকাই বেহাত করেছেন তারা। 

গোপন একটি সূত্র জানায়, বাছিরুল আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কয়েকজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহায়তায় পুরো লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। অথচ জেলা পরিষদের তৎকালীন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী সরকারি ক্রয় নীতিমালা (পিপিআর-২০০৬ ও ২০০৮) অনুযায়ী বীজ কেনার জন্য দাপ্তরিক নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বীজ কেনার জন্য একটি কৃষি পুনর্বাসন কমিটি রয়েছে। পদাধিকার বলে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা এবং সদস্যসচিব ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাছিরুল আলম। এ ছাড়াও জেলা পরিষদের সদস্য কংজপ্রু মারমা যাবতীয় বিষয় দেখভালের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তবে বীজ কেনা এবং বিতরণের বিষয়ে কোনো কিছুই অবগত নন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পেঁয়াজ ও অড়হর বীজ বিতরণেও নয়ছয়

গত মৌসুমে শীতকালীন পেঁয়াজ প্রদর্শনীতে প্রতি কেজি ৬ হাজার টাকায় কেনা বীজের অর্ধেক বিতরণ করে বাকি অংশের টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। ১৮টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটি প্রদর্শনীতে ১ কেজি বীজ বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও কৃষকদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০০ গ্রাম করে। এই খাতেও ৫৪ হাজার টাকা লোপাট হয়েছে।

বীজ পাওয়া কয়েকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের ৫০০ গ্রাম বীজ দেওয়া হলেও কেউ জানতে চাইলে ১ কেজি বীজ পেয়েছেন বলে জানানোর কঠোর নির্দেশনা দেন কৃষি কর্মকর্তারা। তা না হলে পরে আর কোনো ধরনের সহায়তা পাবেন না- এমন হুমকি দেওয়া হয় কৃষকদের। 

শুধু তাই নয়, বীজ সহায়তা প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১৭ জন কৃষকের নামে ১ কেজি করে পেঁয়াজ বীজ বিতরণ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কৃষককেই পেঁয়াজের বীজ দেওয়া হয়নি বলে অধিদপ্তরের একটি গোপন সূত্র জানিয়েছে। আর এতে আত্মসাৎ করা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার টাকা। অপরদিকে অড়হর কর্মসূচিতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন কৃষক ২ কেজি করে বীজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকদের দেওয়া হয়েছে এক কেজি বা তারও কম। মাঠপর্যায়ে এখনো চলছে বিতরণের নামে এমন ভেলকিবাজি।

৩ দিনের ট্যুর ১ দিনে শেষ করে অর্থ আত্মসাৎ

পারিবারিক পুষ্টিবাগান প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে। গত বছরের ডিসেম্বরে ৩০ জন কৃষকের জায়গায় ২০ জনকে নিয়ে ৩ দিনের মোটিভেশনাল ট্যুর মাত্র ১ দিনে শেষ করে মোটা দাগে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। 

গুইমারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন কান্তি নাথ ও পানছড়ি উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জমির উদ্দিনসহ ওই মোটিভেশনাল ট্যুরে অংশ নেওয়া অন্য কৃষি কর্মকর্তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বীকার করেছেন, মোটিভেশনাল ট্যুরটি দিনে দিনে শেষ করে মাস্টাররোলে তিন দিনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। তবে এর বেশি আর কিছু বলতে রাজি হননি ট্যুরে অংশ নেওয়া কৃষি কর্মকর্তারা। 

৪০ লাখ টাকার কৃষিযন্ত্র গায়েব

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউএনডিপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির চারটি উপজেলার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি রাইচ হার্ভেস্টার যন্ত্র কেনা হয়। তবে বাছিরুল আলম ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক এক মাস আগে পানছড়ি উপজেলার রাইচ হার্ভেস্টার যন্ত্রটি গায়েব হয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, খাগড়াছড়ি আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা খগেন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে যোগসাজশে কৃষকদের জন্য কেনা রাইচ হার্ভেস্টার যন্ত্র বিক্রি করে অর্থ লোপাট করেছেন বাছিরুল আলম। ৪০ লাখ টাকার ওই কৃষিযন্ত্র এক বছর ধরে গায়েব। অথচ রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে একেবারেই নির্বিকার কৃষি বিভাগ ও জেলা পরিষদ।

ঢাকায় জমি, বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট

এত সব অনিয়মের নেপথ্যে রয়েছে বাছিরুল আলমের বিত্তবৈভবের বিস্তার। ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, উত্তরা এলাকায় কোটি টাকার প্লট, জমি ও ব্যক্তিগত দামি গাড়ি রয়েছে তার- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। 

এদিকে ঢাকায় নিজের বাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করলেও বাকি সব অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাছিরুল আলম। বাছিরুল আলম বলেন, ‘আমার পুরান ঢাকায় পৈতৃক বাড়ি এবং মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় নিজের ফ্ল্যাট রয়েছে, এ কথা সত্যি। তবে এসব সম্পদ আমার বেতনের টাকায় কেনা। এর বাইরে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনোটারই ভিত্তি নেই। আমার বিভাগের কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত। আর পদাধিকার বলে কৃষি পুনর্বাসন কমিটির আহ্বায়ক হলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এতসব অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান ও কৃষি পুনর্বাসন কমিটির আহ্বায়ক জিরুনা ত্রিপুরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আহ্বায়ক কংজ্যপ্রু মারমা বলেন, ‘আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও বীজ কেনার বিষয়ে কিছুই জানা নেই আমার। তবে মোটিভেশনাল ট্যুরে তিন দিনের প্রশিক্ষণ এক দিনে শেষ করার অভিযোগটি আমিও শুনেছি। এর বাইরে আপাতত কিছুই বলতে চাইছি না।’

শাহরাস্তিতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
শাহরাস্তিতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাসিরউদ্দিনের (৬০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং সে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় সাত মাস আগে প্রতিবন্ধী বাবা-মা শিশুটিকে প্রতিবেশী নাসিরউদ্দিনের বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে পাঠান। ভুক্তভোগী শিশুর অভিযোগ, সেই সুযোগে নাসিরউদ্দিন তাকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে স্পর্শ করত এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘরে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে বাবা-মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় প্রাণভয়ে এতদিন সে মুখ খোলেনি।

গত ২ জুন শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি ঘটনাটি বিস্তারিত প্রকাশ করে। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তার পাচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ভুক্তভোগীর মা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্যও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তামান্না রুপা/

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মীসহ মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

গ্রেপ্তাররা হলেন আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সচিবালয়ে তার চুরির বিষয়ে প্রথম দিন থেকেই আমাদের তদন্ত চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা এ চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারি। সচিবালয়ে ওই ভবন থেকে টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিল আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে যে ভাঙারির দোকানে তার বিক্রি করেছিল, সেই ভাঙারি ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে আট কেজি চুরি হওয়া তার উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তার চুরি করেন। পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করেন। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্য মতে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডে একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে সিটিটিসির ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাংনীতে চুরির অভিযোগে যুবককে হত্যা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:০৬ এএম
গাংনীতে চুরির অভিযোগে যুবককে হত্যা
ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিটে মারা যান অভিযুক্ত চোর। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দীতে একটি টায়ারের দোকানে চুরির অভিযোগে এক যুবককে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়েছে সভ্য সমাজ। অপরাধীকে শাস্তি দিতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অমানবিক ও নৃশংসভাবে হত্যাও বেআইনি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

মঙ্গলবার (২ জুন) হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার হলেও পাঁচ মিনিটের জায়গায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় নেয়। চোর আটকের পর বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে।

সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হয়ত প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার সুযোগ তৈরি হতো।

বামন্দীর খোকন টায়ার হাউসের পরিচালক বাদল আলী বলেন, ওই চোরকে আমার দোকানের কর্মচারী ধরার পরই পুলিশকে বাজার কমিটির সভাপতির ছোটোভাই ফোন দিয়েছিল কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। তাই চোরকে জামান ফিলিং স্টেশনের মধ্যে রাখা হয়।

বামন্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব পাঁচ মিনিট হলেও তারা এসেছে ৪-৫ ঘণ্টা পর। এটি পুলিশের দায়িত্বের চরম অবহেলার প্রমাণ দেয়। হয়ত পুলিশ আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটতো না এবং চোরের সঙ্গে জড়িত আরও ৪-৫ জন সদস্য ও পুরো নেটওয়ার্ক ধরা যেত। এ ঘটনায় পুলিশ দায়িত্বে চরম গাফিলতির প্রমাণ দিয়েছে।

বামন্দী বাসস্ট্যান্ড বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. কায়কোবাদ বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আনুমানিক সাতটার দিকে বামন্দী ক্যাম্পের পুলিশকে ফোন দিয়ে জানাই। কিন্তু লোকটি মারা যাওয়ার অনেক পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা বাবু বলেন, হয়ত প্রশাসনের প্রতি মানুষ আস্থার জায়গা হারিয়েছে, যে কারণে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। তবে নিঃসন্দেহে এটিও মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত।

শুরুতে বিষয়টিকে গণধোলাইয়ে মৃত্যু বলা হলেও ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ফুটেজ ও নির্যাতনের সময় মোবাইলে ধারণকৃত এক ব্যক্তির ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হাতেগোনা মাত্র কয়েক জন লোক মিলেই চুরির অভিযোগে আরিফ নামে ওই ব্যক্তিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে বামন্দী বাসস্ট্যান্ড এলাকার খোকন টায়ার হাউসে চুরির উদ্দেশ্যে একটি চোরচক্র হানা দেয়। এ সময় ওই টায়ারের দোকানের তুষার নামক কর্মচারীর হাতে চুরির অভিযোগে আরিফ ধরা পড়ে এবং একটি জিপ গাড়িতে আরও ৪ জন চোর পালিয়ে যায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী মেসার্স জামান ফিলিং স্টেশনের ভেতর নিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটানা কয়েক ঘণ্টা বেধড়ক মারপিট করা হয়। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সড়কের পাশে ফেলে পানি ছিটানো হয়। মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন মিলে সড়কের পাশে একটু দূরে তাকে ফেলে রাখে।

চুরির অভিযোগে নিহত আরিফ হোসেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ধোলাঝাড় গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (৩ জুন) গাংনী থানায় নিহত আরিফের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

নিহত আরিফের স্ত্রী তাম্মি খাতুন বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠিন বিচার চাই।

খবর পাওয়ার পরও পুলিশ না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনায় তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও অনুরোধ জানান।

ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি এবং এই বিলম্বের পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারেক হোসেন/নাঈম

পাবনায় বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্য উন্মোচন, শ্বাসরোধে হত্যা করেন প্রেমিক নাঈম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
পাবনায় বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্য উন্মোচন, শ্বাসরোধে হত্যা করেন প্রেমিক নাঈম
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। উন্মোচিত হয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)।

রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আজিজুল প্রামানিক। সে মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের  ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মূলহোতা প্রেমিক পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. নাঈম এবং তার দুই সহযোগী একই গ্রামের ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনে বিরোধে প্রেমিক নাঈম তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় মরদেহ বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২ মে) আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে রিয়া খাতুন প্রেমিক নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একপর্যায়ে কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তা বিরোধে রূপ নিলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

হত্যার পর নাঈম ঘটনা গোপন করার জন্য তার দুই সহযোগী একই গ্রামের  ইয়াসিন শেখ ও  তুহিন প্রামানিককে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তারা রিয়ার দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে এবং গলায় একটি বাজারের ব্যাগ পেঁচিয়ে মুরগির খাবারের বস্তায় ভরেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলতে যায়।

নদীর তীরে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ প্রাইভেটকারটি নষ্ট হয়ে গেলে গাড়ির ভেতরে মরদেহ থাকা অবস্থাতেই চারজন যুবককে গাড়ি ঠেলতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মানবিক কারণে স্থানীয়রা গাড়িটি ঠেলে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তবে যুবকদের সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সেই সন্দেহের সূত্র ধরেই ঘটনার জট খুলল পুলিশ।

পরে বুধবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে কৃষকেরা চরে কাজে যাওয়ার সময় একটি নৌকার পাশে বস্তা ভাসতে দেখেন। পরে তারা বস্তার মুখ কেটে হাত-পা বাঁধা কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
 
মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারীরা স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং বলরামপুর স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাঈম, ইয়াসিন ও তুহিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে মরদেহ বহনকারী প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
 
পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   

আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/

চাঁদপুরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
চাঁদপুরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৭
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের হাইমচরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ওমর ফারুক নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুইজন কিশোর।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ফারুকের বাবা আবদুল খালেক ঢালী বাদী হয়ে বুধবার সকালে হাইমচর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- আখি আক্তার (২৩), নাজমা বেগম (৪৫), লাকী বেগম (৩০), সোনিয়া বেগম (১৯) ও তয়মুনন্নেছা (৫৫), জুম্মান (১৫) ও আব্দুল্লাহ (১৩)।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফয়েজ আহমেদ/খাদিজা রুমি/