মাদারীপুরের কালকিনিতে চাঁদা না পেয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরঠেঙ্গামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত কাঠ ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী মো. জুয়েল খান (৩৫) উপজেলার কাজীকান্দি এলাকার কাশেম খানের ছেলে।
অভিযুক্ত বাবুল ব্যাপারী কালকিনি পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে চরঠেঙ্গামারা এলাকায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে কাঠের ব্যাবসা করছিলেন। রবিবার বিকেলে জুয়েল তার দোকানে আসলে আওয়ামী লীগের বাবুল ব্যাপারীর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। জুয়েল এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েলকে জোরপূর্বক দোকান থেকে কিছুটা দূরে একটি গরুর হাটে নিয়ে যায়। পরে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেদম মারধর করে গুরুতর জখম করেন। এ সময় তার পকেটে থাকা মোবাইল ও নগদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এ সময় জুয়েলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পাঠিয়ে যান। গুরতর আহত অবস্থায় জুয়েলকে উদ্ধার করে কালকিনি ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
জুয়েল খান বলেন, ‘তারা অনেক দিন ধরে আমার কাছে চাঁদা চেয়ে আসছিল। ৫ আগস্টের আগে তাদের চাঁদা দিছি। এরপরে আর দেইনি। তাই বাবুলের নেতৃত্বে তার দলবল আমার দোকানে এসে প্রথমে চাঁদা চায়। আমি দেবো না বললে, ওরা আমাকে জোর করে পাশের একটি গরুর হাটে নিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ভাই মামুন ঢাকায় ভর্তি, তাকে কোপানো হয়েছে। আমিও দূরে আছি। এগুলো মিথ্যে ও বানোয়াট অভিযোগ।’
এ সম্পর্কে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নয়। দুপক্ষের মধ্যে আগে একটি মামলার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ছিল। যার জের ধরে জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
মেহেদী/