চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ছিনতাইকারীদের অভয়রাণ্যে পরিণত হয়েছে। ছিনতাইকারীদের দৌড়াত্ম্যে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভোরে কাজে যাওয়ার সময় এবং রাত ১২টার পর এই সড়ক দিয়ে একাকী চলাফেরা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হালিশহর থানার আগ্রবাদ এক্সেস রোডের ব্যাপারীপাড়া, ছোটপুল দেওয়ান আলী সওদাগর মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান রোড, ফুলকলি থেকে শান্তিবাগ শেভরন, আরএফ পুলিশ লাইন্সের গেট এবং বড়পোল মোড়সহ আরও কিছু এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এসব স্পটে প্রতিদিন কেউ না কেউ ছিনতাইকারীদের কাছে মোবাইল, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়াচ্ছেন। বিশেষ করে ভোর ৫টা থেকে ৬টা এবং রাত ১২টা থেকে সাহরির সময় পর্যন্ত এসব এলাকায় চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ একা চলাফেরা করতে গেলেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাইয়ের শিকার অনেকেই থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
কয়েকদিন আগে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নগরীর ছোটপুল এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুরাদ হোসাইন। তিনি ভোর সোয়া ৫টার দিকে বাসা থেকে কেইপিজেডে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি হালিশহর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ছোটপুল এলাকার দেওয়ান আলী মসজিদ সংলগ্ন শিশু কবরস্থানের সামনে যাওয়ার পথে তিন ছিনতাইকারী তার পথ রোধ করে। তাদের হাতে লাঠি ও চাকু ছিল। তারা লাঠি দিয়ে মুরাদের হাতে আঘাত করে। এরপর তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সম্প্রতি আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ছোটপুলে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া মো. আরাফাত জানান, ঢাকা থেকে চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে তিনি রিকশায় বাসায় যাচ্ছিলেন। ছোটপুলে পৌঁছালে চার ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করে। তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে স্পটে মুরাদ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন সেখানে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। যারা এসব অপরাধে জড়িত তাদের বসবাসও আশপাশের এলাকায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বড়পোল, ছোটপুল, সিডিএসহ বিভিন্ন স্পটে যারা ছিনতাই করেন তাদের একটি বড় অংশ থাকেন ছোটপুল মালেক মাস্টারের বাড়ি (প্রকাশ চায়না বাড়ি) এলাকায়। বাড়িটির একাধিক প্রবেশ পথ থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটি পথে প্রবেশ করলে তারা অন্য পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ কারণে পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও তারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
একটি সংস্থার তথ্যমতে, ওই এলাকায় প্রায় এক ডজনেরও বেশি ছিনতাইকারী প্রতিনিয়ত অপরাধ করে চলেছে। তাদের মধ্যে আছে সাফায়েত, বিজয়, কাল্লু, মিরাজ, সাকিব, রানা, বদি, আরিফ, জীবন, হৃদয়, মুন্না, মাহিনসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘সিএমপির ১৬টি থানাজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। প্রতিদিন ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধী ধরা পড়ছে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ঘিরে শক্তিশালী ছিনতাইকারী চক্র গড়ে ওঠার বিষয়টি জানা ছিল না। ওই এলাকায়ও এখন থেকে জোরালো অভিযান চলবে।’