যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা এক বছরে ১৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর পেছনে বাসস্থানের উচ্চব্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় শহরগুলোতে অভিবাসন বৃদ্ধির ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট (এইচইউডি বা হাড) বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি রাতে পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ ওই সময়ে গৃহহীন ছিল। গৃহহীন এসব মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে, অস্থায়ী আবাসনে বা কোনো ধরনের আশ্রয়হীন অবস্থায় ছিল।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এর আগে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে এটি ছিল ২০০৭ সালে ফেডারেল সরকারের বার্ষিক গৃহহীন জনসংখ্যা গণনা শুরু করার পর থেকে সর্বোচ্চ।
তবে এই সংখ্যাটি প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় কম। কারণ এই জরিপে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সাময়িকভাবে অবস্থান করা মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই জরিপ চালানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়ার হার এবং সীমান্ত পরিস্থিতি উভয়ই পরিবর্তিত হয়েছে।
খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্টে পরিবারভিত্তিক গৃহহীনতার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় মোট ৩৯ শতাংশ বেড়েছে এবং ১৩টি স্থানে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। কারণ, এই ১৩টি স্থান অভিবাসনের প্রভাবের শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অভিবাসনের প্রভাব না থাকার কথা জানানো ৩৭০টির বেশি স্থানীয় এলাকায় পরিবারভিত্তিক গৃহহীনতা গড়ে ৮ শতাংশেরও কম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৮ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে গৃহহীনতার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। জরিপের রাতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু গৃহহীন অবস্থায় ছিল। এ বছর ৬৫ বা তার বেশি বয়সী গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।
তবে প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক দিকও উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি হলো, দেশটিতে সামরিক ভেটেরানদের মধ্যে গৃহহীনতার হার ৮ শতাংশ কমেছে, যা বহু বছর ধরে চলমান একটি হ্রাসের প্রবণতা। এ ছাড়া কিছু শহর তাদের গৃহহীন বাসিন্দাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।
হাড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির যে কয়েকটি জায়গায় বাসা ভাড়ার হার বেশি তার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস অন্যতম। সেখানে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৭ বছরে প্রথমবারের মতো ৫ শতাংশ কমেছে।
ডালাসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দুই বছরে ১৬ শতাংশ কমেছে এবং পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ার কাছে চেস্টার কাউন্টিতে গৃহহীনতার হার পাঁচ বছরে ৬০ শতাংশ কমেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি সম্ভব হয়েছে আইনি ও শিক্ষা কার্যক্রম, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন বৃদ্ধি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গৃহহীনতা প্রতিরোধ উদ্যোগের মাধ্যমে। তবে কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরোধ উদ্যোগের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহহীনতার পরিসংখ্যানও বেড়েছে।
গত কয়েক বছরে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছে এবং ২০২২ সালের শেষের দিকে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নররা হাজার হাজার অভিবাসীকে নিউইয়র্ক, শিকাগো ও ডেনভারের মতো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে পাঠিয়েছেন, যেখানে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ে রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের গৃহহীনতার পরিসংখ্যানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ ৬০ শতাংশের বেশি কমেছে এবং সীমান্তে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ২০২০ সালের জুলাই মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি বড় শহর অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে আরও হয়, জরিপটি এমন এক সময়ে পরিচালিত হয়েছিল যখন বাড়ি ভাড়ার হার বেড়ে গিয়েছিল। তবে জানুয়ারির পর থেকে অনেক শহরে ভাড়া স্থিতিশীল হয়েছে বা কিছু ক্ষেত্রে কমেও গেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগও গৃহহীনতার সংখ্যা বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ ছিল। এই গণনায় ৫ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যারা ২০২৩ সালের আগস্টে মাওইতে ভয়াবহ দাবানলের পর হাওয়াইয়ের জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছিল।