সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। তপ্ত জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে হাঁসফাঁস করা নগরবাসী যখন বিকেলের আবছা রোদে ছুটির আমেজ খুঁজছিলেন, ঠিক তখনই আকাশ ভেঙে নামল অঝোর ধারার বৃষ্টি। ঘণ্টা তিনেকের টানা বর্ষণে একদিকে যেমন তীব্র গরম থেকে মিলল সাময়িক স্বস্তি, অন্যদিকে তলিয়ে গিয়েছিল রাজধানীর বেশকিছু এলাকা।
ছুটির দিনের বিকেলে তখন রাজধানীর রাজপথে নেমে এল এক অবর্ণনীয় ভোগান্তি।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে নিমেষেই বদলে যায় চেনা দৃশ্য। বৃষ্টির তোড়ে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, মিরপুর ও মগবাজারের বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
ইস্কাটনের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনের রাস্তা থেকে শুরু করে গ্রিন রোড, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজারের অলিগলি-সবখানেই জমে যায় হাঁটু সমান পানি।
ছুটির দিন হলেও বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন গন্তব্যমুখী মানুষ। মেট্রোরেল স্টেশন থেকে নেমে অনেকে ভিজতে ভিজতে ফেরার পথ ধরেন। এর মধ্যেই কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ও বিমানবন্দর সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ জটলা জনজীবনকে আরও স্থবির করে তোলে। এদিকে, বৃষ্টির তীব্রতা উপেক্ষা করেই অনেকে আবার হুট খোলা রিকশায় গা ভিজিয়ে উপভোগ করেছেন ‘বৃষ্টিবিলাস’।
তবে এই বৃষ্টি সবার জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসেনি। খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের পাশে ফুটপাতে ছাপড়া ঘরে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। প্লাস্টিকের ছাদ চুইয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে বৃষ্টির পানি; ভিজে নষ্ট হয়েছে তাদের অতিসামান্য সম্বল, লেপতোশক। একই চিত্র দেখা গেছে শহরতলির যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর নিচু এলাকাগুলোতেও। বাড্ডার কবরস্থান রোডেও ছিল থইথই পানি।
যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাজধানীতে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানীসহ সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখন কোথাও কোথাও স্বল্প থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ভারি বর্ষণ এখনো শুরু হয়নি। ধীরে ধীরে বর্ষার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে।’
পঞ্জিকার পাতায় আষাঢ় আসতে আর মাত্র দু-দিন বাকি। এর মধ্যেই দেশের সর্বত্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বিস্তার ঘটেছে। টানা কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের পর জ্যৈষ্ঠের শেষ সময়ে এই বৃষ্টি বর্ষার আগমনী বার্তা দিয়ে গেল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে।
শনিবারের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকা এবং ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
জয়ন্ত সাহা/এসএন