বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে তথ্যের প্রয়োজন। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো আইডিআরএ-কেও সঠিকভাবে তথ্য প্রদান করতে চায় না। যেসব তথ্য দেয় সেগুলো ফেব্রিকেটেড (অতিরঞ্জিত) কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায় না। তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন হলে ৮৫ শতাংশ অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সে পদক্ষেপ নিলেও সহযোগিতা পাচ্ছি না।
বুধবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশের বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বিমা খাতের সংস্কার ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
ড. এম আসলাম আলম বলেন, বিমা খাতের সংস্কারে আইডিআরএ-এর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আইডিআরএ নামে আছে, কাজে নেই। কোম্পানিগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইডিআরএ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সে উদ্যোগ কোম্পানিগুলোর পছন্দ না হলেই আদালতে গিয়ে সংশোধন করে নিয়ে আসে। ফলে কোম্পানিগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আইডিআরএ-এর আইন-কানুন ও তা প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আইডিআরএ বা ইডরা বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য নামেই শুধু অথরিটি, কিন্তু কর্মকাণ্ড খুবই সীমিত করে রাখা হয়েছে। ইডরা নামেই একটি অথরিটি, কাজে অথরিটি নাই। ইডরার যে ক্ষমতা টুকু আছে সেটিও প্রয়োগ করতে পারে না। আবার করতে গেলেও সমস্যা। আপনি জানেন আমার আগের চেয়ারম্যানকে কিভাবে বিদায় করা হয়েছে। তাকে এক প্রকার বল প্রয়োগ করে বিদায় করা হয়েছে। কাজ করতে গেলেও সমস্যা, না করলেও সমস্যা। কাজ না করে যদি বসে থাকতে হয়, তা হলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। আবার যে সমস্ত কাজ করা হয়, সেটি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয় তা হলেও সেটি সংকটকে ঘনীভূত করে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, আমি আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, আমরা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কোনো কাজ করব না। ২০১৪ সালে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই বিমা নীতি করেছিলাম। এখন বিমা নীতি ২০২৫ প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেও আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এখনো অনেক ক্ষেত্রেই আইডিআরএ সীমাবন্ধতা আছে। আমি যোগদান করার পরই সোনালি লাইফের জটিলতাটি সামনে আসে। আমি চেষ্টা করেছি সমাধান করার। অনেকেই বলেন, কোনো বিমা কোম্পানি বিমা দাবি পরিশোধ না করলে তার সম্পদ বিক্রি করে পলিসি হোল্ডারদের মধ্যে বিরতণ করার। কিন্তু আইডিআরএ আইনে তা করা যায় না। এ ছাড়া কোনো কোম্পানিকে তার সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করলেও সেই কোম্পানি আদালতে গিয়ে তা বাতিল করে নিয়ে আসে। কোম্পানির লোকেরাই আইডিআরএ প্রশাসককে কাজ করতে দেয় না। এসব জায়গায় সংস্কার প্রয়োজন।
আইআরএফ সভাপতি গাজী আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। লাইফ বিমা খাত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রগতি লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম এবং নন-লাইফ খাত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেনা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম।
সেমিনারে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্যরা, লাইফ ও নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমে বিমা খাত নিয়ে কাজ করা সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।