ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

ইসলামী ব্যাংক: গ্রাহক ৩ কোটি, আন্দোলনে ৫০০

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ইসলামী ব্যাংক: গ্রাহক ৩ কোটি, আন্দোলনে ৫০০
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা।

ফোরামের পক্ষ থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের বলা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং ব্যবসায়ী। যদিও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কর্মী কোন শাখার গ্রাহক সেটা বলতে পারেননি।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। যদিও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৫০০ লোক, যা ০.০০১৭ শতাংশ। 

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তারা খুরশীদ আলমকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেবেন না। তিনি ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও একটি লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে সাত দফা দাবি মেনে নিন।  

আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার আমির মো. শাহীন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মনজুর ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মো. হাসান, জামায়াতে ইসলামীর কোতোয়ালি থানার আমির মতিউর রহমান, ওয়ারী থানার নেতাসহ দলটির অন্য নেতা-কর্মীরা।

এর আগে দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলন ঘিরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

প্রথম দিন গত সোমবারের আন্দোলনের কারণে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্ধারিত সভা সশরীরে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ওই সভায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, রাজপথের আন্দোলনের ভিত্তিতে কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের অনেকগুলোই ভিত্তিহীন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ঋণ নেই। তার স্ত্রীর নামে একটি ঋণ রয়েছে, যা বর্তমানে খেলাপি অবস্থায় আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনর্গঠিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক অন্যতম। সম্প্রতি চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যানারে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। এর ধারাবাহিকতায় টানা কয়েক দিন ধরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদ খান
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হয়েছেন বহুজাতিক কোম্পানির ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আজ থেকেই তিনি বিএসইসিতে যোগ দেবেন।

এছাড়া কমিশনার পদে নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান এবং নাফিজ-আল-তারিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

মাসুদ খান ৪৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপে যোগদানের আগে তিনি লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন পদে দেশে ও বিদেশে ২০ বছর কাজ করেছেন।

এ ছাড়া তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংকের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। বিএসইসি থেকে পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন, মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।

নাঈম/

৪ জুন: কমল প্রায় সব মুদ্রার দাম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
৪ জুন: কমল প্রায় সব মুদ্রার দাম
বৈদেশিক মুদ্রা। ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.7500 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 --
ইউরো     142.32 142.37 - 0.45
ব্রিটেন পাউন্ড     164.68 164.73 - 0.6
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     87.49 87.52 - 0.51
জাপানি ইয়েন 0.76 0.76 --
কানাডিয়ান ডলার 88.32 88.33 - 0.36
সুইস ক্রোনা 13.03 13.05 - 0.14
সিঙ্গাপুর ডলার 95.58 95.63 - 0.32
চায়না ইউয়ান     18.10 18.10 - 0.04
ইন্ডিয়ান রুপি     1.28 1.28 --
সৌদি রিয়াল 32.53 32.53 - 0.01
আরব আমিরাত দিরহাম 33.26 33.26 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

মুদ্রা কেনাবেচার দর: ৪ জুন, ২০২৬

নাঈম/

বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও চারজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই তারা পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মু. মহসীন চৌধুরী। এরপর ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সবশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।

অমিয়/

লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

কয়েক দিন আগেও রাজশাহীর আমবাগানগুলো ছিল উৎসবের রঙে রাঙানো। গাছে গাছে ঝুলছিল পাকা গোপালভোগ, গুটি আর লক্ষ্মণভোগের থোকা। চাষিদের চোখে ছিল ভালো দামের আশা। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই সেই আশায় ভাটা পড়েছে। আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীর মোকামগুলোতে এখন একটাই আলোচনা—দাম নেই, ক্রেতা নেই, লাভ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহীর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে; যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অনুকূল আবহাওয়া এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এ বছর ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।

রাজশাহীর বৃহত্তম আমের মোকাম পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্যান, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে করে আম নিয়ে আসছেন চাষিরা। কিন্তু হাটে পৌঁছানোর পর অনেকের মুখেই হতাশার ছাপ। আড়তদাররা আমের মান যাচাই করে দর বলছেন, আর সেই দর শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন চাষিরা।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আমের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মৌসুমের শুরুতে যে গোপালভোগ আমের মণ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২ হাজার টাকায়, এখন সেটি নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। একইভাবে গুটি আমের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ১৫ মে বাজারে আসা গুটি আমের মণপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

২৫ মে থেকে বাজারে উঠতে শুরু করা রানীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ আমও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে না। লক্ষ্মণভোগের মণ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে এই আমের দাম দেড় হাজার টাকার নিচে নামেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ৩০ মে থেকে বাজারে আসা ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর আম তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই জাতের আমের মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দামও কিছুটা কম।

পুঠিয়ার ভুবননগর গ্রামের আমচাষি আমিনুল ইসলামের প্রায় ২০ বিঘা আমবাগান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সারের দাম, কীটনাশক, সেচ খরচ ও শ্রমিকের মজুরি সবই বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে আমের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এত খরচ করে আম উৎপাদন করছি, কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচই তুলতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে অনেক চাষি আগামীতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।’

শুধু আমিনুল ইসলাম নন, হাটে আসা অনেক চাষির কণ্ঠেই একই হতাশা। তাদের অভিযোগ, বাগানে ফলন ভালো হলেও বাজারে ক্রেতা কম থাকায় দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই চাষিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত বাজারে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে মানুষের প্রধান ব্যস্ততা থাকে পশু কেনাবেচা, কোরবানি এবং মাংস সংরক্ষণ নিয়ে। ফলে ফলমূলের বাজারে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমে যায়। একই সময়ে কুরিয়ার ও পরিবহন সেবাও সীমিত আকারে পরিচালিত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে আম পাঠানো ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে।

বানেশ্বর হাটের ব্যবসায়ী ইমান আলী বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে গোপালভোগের মণ ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা। এবার বাজারে আমের জোগান বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা নেই। ফলে দাম কমে গেছে।’

একই কথা বলেন ব্যবসায়ী মো. রাজিবুর। তার মতে, ঈদের সময় মানুষ সাধারণত ফলের চেয়ে মাংস নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। ঈদে যানবাহন তেমন পাওয়া যায়নি, ফলে আমের চাহিদা কমে যায়। তবে এখন মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এতে বাজারে আবার গতি ফিরতে পারে।

দুর্গাপুর উপজেলার পালি গ্রামের আমচাষি রাজু মিয়া বলেন, বর্তমান দামে আম বিক্রি করে শ্রমিক, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটিতে গোপালের কপালই খারাপ। এই দামে আম বিক্রি করা মানে লোকসান গোনা।’

তবে ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি হতাশ নন। তাদের ধারণা, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। মানুষ কর্মস্থলে ফেরার সময় সঙ্গে করে আম নিয়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি কুরিয়ার ও পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।

জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। ফলে সামনের দিনগুলোতে আমের বাজার আরও জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে সরবরাহও বেশি। ফলে দামের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে মৌসুম যত এগোবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, বাজার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করছি।’

৫ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
৫ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে দুই কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
 
বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন সময়ের জন্য ২৬তম কার্গো, ৩০ জুন-১ জুলাই সময়ের জন্য ২৭তম কার্গো এবং ৬-৭ জুলাই সময়ের জন্য ২৮তম কার্গো, এই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
 
ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় এক কার্গো এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই তিন কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)।
 
বৈঠকে আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই দুই কার্গো এলএনজি কিনতে মোট কত টাকা ব্যয় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জিটুজি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং এফআরএসইউ স্থাপনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রস্তাব দাখিল করে।
 
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জিটুজি ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে কিছুসংখ্যক এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
 
এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে জিটুজি ভিত্তিতে স্বল্প মেয়াদে এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে ২০২৬ সালে দুই কার্গো এলএনজি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জাপান-কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা অনুযায়ী দর প্রস্তাব প্রতি এমএমবিটিইউ (জেকেএম+শূন্য দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার) হিসাবে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করলে মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এক কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।