ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

আরও তিনটি কারখানা পেল পরিবেশবান্ধব সনদ

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৩ এএম
আরও তিনটি কারখানা পেল পরিবেশবান্ধব সনদ
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের আরও তিনটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের মোট ২৪০টি কারখানা এখন পরিবেশবান্ধব সনদ পেল।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ইকোটেক্স লিমিটেড, বোর্ডবাজারের এলিট গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও শ্রীপুরের ইউরো নিট স্পিন লিমিটেড- এই তিনটি কারখানা প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব কারখানার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছে তারা।

বাংলাদেশের যে ২৪০টি কারখানা এখন পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছে, তার মধ্যে ৯৮টি কারখানা প্লাটিনাম সনদ, ১২৮টি গোল্ড সনদ পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের কারখানাগুলো সর্বোচ্চ মানের পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণ করতে পারছে। বাকি ১৪টি কারখানার মধ্যে সিলভার সদনপ্রাপ্ত কারখানা ১০টি এবং সার্টিফায়েড সদনপ্রাপ্ত কারখানা ৪টি।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি পরিবেশবান্ধব কারখানার মধ্যে ৬৬টি কারখানাই এখন বাংলাদেশের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে এই পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে তিনটি কারখানা। এ সনদ পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়।

বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসজিবিসি যে সনদ দেয়, তার নাম ‘লিড’। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো- লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। এ সনদ পেতে প্রতিটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মান রক্ষা করতে হয়।

মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মরিশাসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে দুই দেশ। 

সোমবার (৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলও) সাইডলাইনে দুই দেশের শ্রমমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে সম্মত হয়। 

বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম অংশ নেন। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে শুভেচ্ছা জানান আরিফুল হক। পরে মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুকূল সিদ্ধান্ত নিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতার কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, টেক্সটাইল খাতের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স, হিসাবরক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল মরিশাসে পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বৈঠক শেষে তিনি মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। 

বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে তাদের সরকার আগ্রহী। বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পে বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

আজকের মুদ্রার বাজার: ৮ জুন, ২০২৬

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
আজকের মুদ্রার বাজার: ৮ জুন, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.7500 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 --
ইউরো     141.40 141.44 --
ব্রিটেন পাউন্ড     163.74 163.79 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     86.48 86.53 --
জাপানি ইয়েন 0.7656 0.7658 --
কানাডিয়ান ডলার 88.09 88.10 --
সুইস ক্রোনা 12.94 13.00 --
সিঙ্গাপুর ডলার 95.00 95.20 --
চায়না ইউয়ান     18.0751 18.0754 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2927 1.2929 --
সৌদি রিয়াল 32.53 32.84 --
আরব আমিরাত দিরহাম 33.26 33.55 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

মুদ্রা কেনাবেচার দর: ৭ জুন, ২০২৬

অমিয়/

বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বাজারেও পড়েছে। সবশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে কমেছে রুপার দামও। বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে আবারও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত শনিবার (৬ জুন) স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম ঘোষণা করে, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায়।

একই সঙ্গে ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। সোমবার (৮ জুন) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্যের কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়লেও তা মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যা স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজুস সূত্র বলছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলে সাধারণত তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আবার কমানো হতে পারে।

অন্তরা/

ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জুলাই থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের পূর্বের দাখিল করা কাগজভিত্তিক (হার্ড কপি) ভ্যাট রিটার্নগুলো ইলেকট্রনিক ভ্যাট (ই-ভ্যাট) সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন-২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার (৭ জুন) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে হার্ড কপিতে জমা দেওয়া মাসিক ভ্যাট রিটার্নগুলো ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার সুবিধার্থে ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউল সংযোজন করা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, এ সাব-মডিউল ব্যবহারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে গত ৫ জানুয়ারি-২০২৬ একটি পরিপত্র জারি করা হয় এবং সব হার্ড কপি রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৩১ মার্চ-২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কাগজভিত্তিক রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আগামী জুলাই থেকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়ে আগামী ৩০ জুন-২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে তাদের কাগজের রিটার্নগুলো ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে ব্যর্থ হবে, তারা বিধিনিষেধের সম্মুখীন হবে।

এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের সমাপনী স্থিতি (ক্লোজিং ব্যালেন্স) স্থগিত (ফ্রিজ) করে দেওয়া হবে। ফলে ভবিষ্যতে ওই স্থিতির বিপরীতে কোনো সমন্বয় করা যাবে না।

রাজস্ব বোর্ড আরও জানায়, ভ্যাট ফেরতের (রিফান্ড) আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ববর্তী সব ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করবে না, তারা রিফান্ডের আবেদন করতে পারবে না।

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগে করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে এনবিআর।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না
ছবি: সংগৃহীত

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমপরিমাণ কর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর আরোপ করা হলে সরকার বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি থেকে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারত। যেখানে জীবাশ্ব জ্বালানির ওপর মোট করের হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সেখানে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীতে সিপিডি আয়োজিত ‘ফসিল ফুয়েল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান রাজস্ব বৈষম্য: জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বর্তমানে আমদানি করা এলএনজিকে বাজারে তুলনামূলক সস্তা ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে। ফলে এলএনজির ওপর মোট করের হার মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ খাতে তা ২৯ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি আমদানির ওপর সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ১ হাজার ২৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একইভাবে বায়ুবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করলে অতিরিক্ত রাজস্ব আসত ১ হাজার ৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানিকে কর সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়লা আমদানির ওপর সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ৬৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে তেল খাতে সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর-কাঠামো প্রয়োগ করলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্টো ৪ হাজার ৯৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কমে যেতে পারে।

সিপিডি জানায়, দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম প্রধান বাধা হলো জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান শুল্ককর বৈষম্য। একদিকে এলএনজি আমদানিতে ভ্যাটশূন্য এবং অগ্রিম আয়কর মাত্র ২ শতাংশ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সোলার প্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করা হয়েছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ কৃত্রিমভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজস্ব ক্ষতি কমাতে সিপিডি বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এলএনজি আমদানির ওপর বিদ্যমান শূন্য ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার করে সাধারণ জ্বালানির মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্বহাল করা, সোলার ও উইন্ড সরঞ্জামের ওপর থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর বাতিল করা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘সবুজ ভর্তুকি’ ও অনুদান বরাদ্দ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি দাবি করে, বর্তমান কর ও বাজেট-কাঠামো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কয়লা ও এলএনজির শুল্ক সুবিধা যৌক্তিকীকরণ এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।