পোশাক শিল্পে অস্থিরতা কাটেনি এখনো। কিছু দুষ্কৃতকারীরা যখন-তখন কারখানা ভাঙচুর করছে। কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই শিল্পে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জিওসি নবম পদাতিক ডিভিশন এবং এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বৈঠকে নবম পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান (বাবলু), সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মো. হাসিব উদ্দিন, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, সুমাইয়া ইসলাম, ফাহিমা আক্তার, মজুমদার আরিফুর রহমান, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, আসেফ কামাল পাশা, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল, সামিহা আজিম এবং বিভিন্ন পোশাক কারখানার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।
বৈঠকে কমান্ডার, ৮১ পদাতিক ব্রিগেড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ঢাকা; কমান্ডার, ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ঢাকা; মো. আবুল কালাম সিদ্দিক, ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম), ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ; মো. ইসরাইল হাওলাদার, ডিআইজি (প্রশাসন অ্যান্ড ক্রাইম), ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ডিজিএফআই প্রতিনিধি; এনএসআই প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধৈর্য ও
বিচক্ষণতা সহকারে যেভাবে জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, যেভাবে দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে লিপ্ত হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিল্পের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে গঠিত যৌথবাহিনীর সহযোগিতার কারণেই পোশাকশিল্প সে সময় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকে পোশাক কারখানাগুলোর বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যাগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বলা হয়, বর্তমানে পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের মধ্যে আইন-বহির্ভূত দাবি ও তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে যখন তখন কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসা, আশপাশের কারখানাগুলো ভাঙচুর করা, রাস্তা অবরোধ করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এতে করে শুধু উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তিও বাড়ছে। আবার ইপিজেড এলাকায় বহিরাগতদের চাকরি দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করার ঘটনাও প্রায়শই ঘটছে। এসবের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বা বকেয়া নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও সুনির্দিষ্টভাবে এক বা একাধিক গোষ্ঠী কর্তৃক গুজব ও উসকানি দিয়ে পোশাক শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
আলোচনায় উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ঝুট সন্ত্রাসের কাছে শিল্প জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঝুট সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী দলগুলো কিশোর গ্যাং তৈরি করে এলাকার পরিবেশ অশান্ত রাখছে, মালিক পক্ষ ও শ্রমিক ভাইবোনদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। পোশাক উদ্যোক্তারা এসব সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে মেজর জেনারেল মো. মঈন খান, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি বলেন, অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে, পোশাক শিল্পের উৎপাদন যাতে অব্যাহত থাকে, সে লক্ষ্যে পোশাক শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। তবে কারখানার অভ্যন্তরের সমস্যাগুলো সমাধান না করা হলে নিরাপত্তা প্রদান কার্যকর হবে না। শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তারা একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছেন বলে জানান।
জিওসি আরও বলেন, পোশাক খাতে ঝুট সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নতুন পদ্ধতি চালু করার বিষয় নিয়েও তারা ভাবছেন। ঝুটের জন্য একটি অকশন হাউস তৈরি করা সম্ভব হলে কারখানাগুলো এ সমস্যার মধ্যে আর পড়বে না। তিনি আশা করেন, উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্য দিয়ে শিল্পখাতে সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করবেন। তিনি সঠিক সময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য উদ্যোক্তাদের সচেতন করার জন্য বিজিএমইএর প্রতি আহ্বান জানান।
মেজর জেনারেল মো. মঈন খান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, কারখানার বাইরে থেকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা কিনা কারখানার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিল্পের পাশেই রয়েছে।
সভায় বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে নিয়ে একটি কনফেডারেশন তৈরি করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও আলোচনা হয়।