খাতুনগঞ্জে ঈদ উপলক্ষে মসলার বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও অন্যগুলোর দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান। এদিকে অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ক্যাব।
রবিবার (১৬ মার্চ) সকালে খাতুনগঞ্জের আড়ত ঘুরে মসলার পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা গেছে। গত দুই সপ্তাহে হলুদ, ভারতীয় মরিচ, জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৭০ টাকা কমেছে। লবঙ্গ, দেশি মরিচ, জায়ফল ও কাঠবাদামের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে আড়তগুলোতে হলুদ প্রতি কেজি ২১০ টাকা, ভারতীয় মরিচ ৩৬০ টাকা, ভারতীয় জিরা ৫৭০ টাকা ও কিশমিশ ৭৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে লবঙ্গ ১ হাজার ৩২০ টাকা, দেশি মরিচ ২২০ টাকা, জায়ফল ৭৩০ টাকা ও কাঠবাদাম ১ হাজার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মসলা আমদানিনির্ভর পণ্য। ইরান, দুবাই, ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে বেশির ভাগ মসলা আসে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব আছে। এর ওপর চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। জাতীয় নির্বাচনের কারণেও বাজার কিছুদিন বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কিছু পণ্যে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে কিশমিশের দাম বেড়েছিল, এখন কমেছে। তবে বেশির ভাগ পণ্যের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। বাজারে পণ্য সরবরাহ পর্যাপ্ত।’
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৪৯১ টন হলুদ, ২ হাজার ৬৬ টন জিরা, ৬ হাজার ৬১৪ টন কিশমিশ, ৬৮৬ টন লবঙ্গ ও ১৫৩ টন জায়ফল খালাস হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু নাসের বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ফিরনি, সেমাই, পোলাও, বিরিয়ানি তৈরিতে মসলা লাগে। চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি বাড়াতে হবে।’
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘রমজান ঘিরে ফল, মসলা, খেজুর, ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেল পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর আগেই বেশির ভাগ পণ্য বন্দরে চলে এসেছে। যুদ্ধের অজুহাতে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা ঈদ সামনে রেখে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, জনবল সীমিত হলেও তারা প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছেন। অনিয়ম পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের ঘোষণা
গতকাল খাতুনগঞ্জে মসলার দোকান পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ছাড়া ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিসংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের অগ্রহণযোগ্য ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ জানতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য ও পেশাজীবীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন খরচ বাড়লে তার প্রভাব বাজারে পড়ে। তবে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনায় যেন পণ্যের দাম না বাড়ে, সরকার সে বিষয়ে সতর্ক। রমজান সংযমের মাস। ব্যবসায়ীরা মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।