দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। উভয় বাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সব মূল্যসূচক। এর মধ্যে ডিএসইর প্রধান মূলসূচক এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিন ডিএসইর লেনদেনের পরিমাণও কার্যদিবসের ব্যবধানে ১০০ কোটি টাকার বেশি কমেছে।
ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা দেওয়া জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় গতকাল থেকে অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই সঙ্গে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সূচিতে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই এদিন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায়। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি লেনদেনের শেষ দিকে পতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫৪টির। আর ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭৮টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৫টির এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে চারটির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০১টির এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটির দাম বেড়েছে এবং ৩০টির দাম কমেছে ও তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ১০৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে নেমে গেছে।
সব কটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১১৪ কোটি টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরির শেয়ার। কোম্পানিটির ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার। ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
গতকাল ডিএসই লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে আরএফএল। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০ টাকা ৪ পয়সা বা ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়েছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, কেডিএস এক্সেসরিজ, এপেক্স ট্যানারি, এপেক্স স্পিনিং, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ডরিন পাওয়ার।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। কোম্পনিটির শেয়ার দর ৬ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) পিএলসির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৯.০৯ শতাংশ, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, নূরানি ডাইং ও তুং হাই নিটিং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২২৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৮টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।