প্রবন্ধ রচনা
(১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের পর)
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য/সৌন্দর্য
পর্বত ও বনের শোভা: বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় আর বনের মিতালি গড়ে উঠেছে। চোখে না দেখলে বনের শোভা বর্ণনায় ব্যক্ত করা কঠিন। পাহাড়ের বুকজুড়ে দীর্ঘ গাছের সারি। ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গজারি বন বহু এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। গজারি বন অনেকটা রুক্ষ লাল মাটিতে জন্মে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সুন্দরবন অবস্থিত। সমুদ্রসৈকতজুড়ে অসংখ্য নদী-নালার মাঝে সুন্দরবন সত্যিই সৌন্দর্যের আধার। সুন্দরবনের পশু, পাখিরা গাছের ছড়ায় লতাপাতা খেয়ে স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়ায়। সাগরের বিশাল ঢেউ তীরে এসে আছড়ে পড়ে। বিকেলের ডুবন্ত সূর্যের শেষ রশ্মিতে সমুদ্র সোনালি বরণ ধারণ করে। এসব দৃশ্য আমাদের মনকে খুশিতে ভরিয়ে তোলে।
মানব মনে প্রভাব: প্রকৃতির এই সৌন্দর্য এ দেশের মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে। এখানকার মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে গড়ে উঠেছে। শান্ত জীবনের বৈশিষ্ট্য যেন প্রকৃতিই দান করেছে। তাই এ দেশের মানুষ তাদের কাব্য ও সাহিত্যে প্রকৃতির রূপের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। প্রকৃতি প্রেমিক কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে ভাব করার একটা মস্ত সুবিধা এই যে, সে আনন্দ দেয়, কিন্তু কিছু দাবি করে না; সে তার বন্ধুত্বকে ফাঁসের মতো বেঁধে ফেলতে চেষ্টা করে না, সে মানুষকে মুক্তি দেয়, তাকে দখল করে নিতে চায় না।’
আরো পড়ুন : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য/সৌন্দর্য্য বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব
ঋতুর বৈচিত্র্যে গ্রীষ্ম: বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম। ধু-ধু রুক্ষ দুই চোখে প্রখর অগ্নিদাহ নিয়ে আবির্ভাব ঘটে গ্রীষ্মের। দেশের সর্বত্রই যেন বিস্তৃত মরুভূমির তপ্ত প্রান্তর। এ সময় জীবজগৎ ও উদ্ভিদ জগতে নেমে আসে এক প্রাণহীন, রসহীন বিবর্ণতার ছায়া। এ সময় প্রকৃতিকে তোলপাড় করে দিয়ে যায় কালবৈশাখীর ভয়াল ছোবল। তার সেই রুদ্র মূর্তি, ও ভয়াল রূপ দেখা যায় বাংলাদেশে। গ্রীষ্মের দুপুরটা গরমে মানুষের কাছে দুঃসহ হয়ে ওঠে, তবে রাতটা তাদের কাছে মনোরম। গ্রীষ্মকালে পাকা আমের বৈভব দেখা যায়। এ সময় দেশের বাজারে ও হাটে কালো জামের প্রাচুর্য দেখা যায়।
বর্ষার শুভাগমন: বাংলাদেশে বর্ষা আসে মহা সমারোহে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো ও গুরুগম্ভীর বজ্রধ্বনির মধ্যে সূচিত হয় তার শুভাগমন। আকাশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘন কালো পুঞ্জীভূত মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। দিগন্তের ওপার থেকে বন্ধনহীন বায়ুপ্রবাহ দুরন্ত বেগে ছুটে আসে, শুরু হয় বারিবর্ষণ। শুষ্ক প্রান্তর, মাঠ-জলাশয়, নদীনালা, খালবিলে অনেকদিন পরে জেগে উঠে প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রকৃতির সব অঙ্গ থেকে গ্রীষ্মের ধূসর ক্লান্তি মুছে যায়, উদ্ভাসিত হয়ে উঠে বর্ষার রূপশ্রী। পুষ্প সৌরভে চারদিক পূর্ণ হয়ে ওঠে। কবির ভাষায় আমরা বলে উঠি-
‘মন মোর মেঘের সঙ্গী
উড়ে চলে দিগ্দিগন্তের পানে
নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণ বর্ষণ সঙ্গীতে
রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম।’
শরৎ ও কাশফুলের সমারোহ: বর্ষার পর প্রকৃতিতে শরৎ আসে তার ধবল রূপ নিয়ে। তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন তার সব গ্লানি মুছে ফেলেছে। স্নিগ্ধ, শ্যামল, চাঁদনি রাতের তখনকার শোভা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বর্ষণ-ধৌত মেঘমুক্ত আকাশের রূপ ও আলোছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন উদাস করা গন্ধ, নদীর তীরে কাশফুলের অপূর্ব সমারোহ, এরূপ অনুপম রূপশ্রী নিয়ে আগমন ঘটে শরতের। কবিতার ভাষায় তখন বলতে ইচ্ছে হয়-
“চাঁদনীর সাথে
প্রতি রাতে রাতে
লা সোনা রং ঢালে যে
খুব মনো চোর
শরতের ভোর
আলো ছায়া ঋতু বড় সে।”
(বাকি অংশ পরের সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর