তৃতীয় অধ্যায় : বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: খাসি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা বর্ণনা করো।
উত্তর: খাসি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধানত বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। তাদের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক, যেখানে পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে। তারা মূলত কৃষিজীবী এবং প্রচুর পরিমাণে পান ও সুপারি চাষ করে থাকে। খাসিদের নিজস্ব ভাষার নাম ‘মনখেমে’, যার কোনো লিখিত বর্ণমালা নেই। খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে তারা ভাত, মাছ, মাংস ও শুঁটকি মাছ পছন্দ করে এবং পান-সুপারি ও চা তাদের সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। তাদের পোশাকও বেশ বৈচিত্র্যময়; নারীরা ‘কাজিম পিন’ নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি পরেন এবং পুরুষরা ‘ফুং মারুং’ নামক পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি পরেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সাঁওতাল ও ম্রো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
উত্তর: সাঁওতাল ও ম্রো উভয় নৃগোষ্ঠীরই নিজস্ব ও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। সাঁওতালরা প্রধানত কৃষিনির্ভর এবং তারা অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও অতিথিপরায়ণ হিসেবে পরিচিত। তাদের প্রধান উৎসবের নাম ‘সোহরাই’, যা ফসল তোলার পর পৌষ মাসে উদযাপন করা হয়। সাঁওতাল নারীরা ‘পানচি’ ও ‘পাডহাহাট’ নামক দুই খণ্ড কাপড় পরেন এবং পুরুষরা ধুতি বা লুঙ্গি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, ম্রোরা প্রধানত বান্দরবান জেলায় বসবাস করে এবং জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। ম্রোদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে এবং তারা সৃষ্টিকর্তাকে ‘থোরাই’ নামে ডাকে। তাদের প্রধান উৎসব হলো বর্ষবরণের ‘চাংক্রান’। ম্রো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ‘ওয়াংলাই’ এবং পুরুষরা ‘দংকেন’ নামক খাটো সাদা পোশাক পরে থাকেন। তাদের খাদ্যাভ্যাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা ‘নাপ্পি’ নামক এক ধরনের উপাদানের ব্যবহার করে থাকে।
লেখক : সাবেক শিক্ষক
ফকিরেরপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফকিরেরপুল, ঢাকা
কবীর