দ্বিতীয় অধ্যায় : সমাজকর্মের শাখা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-৪
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
জনাব ‘ক’ সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। জীবনের প্রান্তিক পর্যায়ে এসে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা তিনি পছন্দ করেন না। আত্মবিশ্বাস ও সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান। এমন চিন্তাভাবনা থেকেই একজন সমাজকর্মীর সহযোগিতা কামনা করেন।
ক. বাংলাদেশে কত সালে চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয়?
খ. বিদ্যালয় সমাজকর্মীর ভূমিকা লেখ।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব ‘ক’-এর কল্যাণে সমাজকর্মের কোন শাখার জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাখাটিতে একজন সমাজকর্মী কী ভূমিকা পালন করতে পারেন তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৮ সালে।
খ. বিদ্যালয় সমাজকর্মী বিদ্যালয়ের পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা যাতে খাপ খাইয়ে চলতে পারে, সেজন্য ভূমিকা পালন করেন। বিদ্যালয় সমাজকর্মী গৃহ-স্কুল ও পরিবারের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত, দলীয় এবং পারিবারিকভাবে উপযুক্ত পরামর্শের মাধ্যমে তাদের স্কুল পরিবেশে সহনশীল করে তুলতে সাহায্য করেন।
আরো পড়ুন : সমাজকর্মের শাখা অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ১৪তম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
গ. উদ্দীপকে জনাব ‘ক’-এর কল্যাণে সমাজকর্মের প্রবীণকল্যাণ শাখার জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।
জনাব ‘ক’ জীবনের প্রান্তিক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছেন। তার এ অবস্থাকে বলা হয় প্রবীণ অবস্থা। সমাজকর্মের একটি শাখা প্রবীণদের নিয়ে কাজ করে, যা প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম হিসেবে খ্যাত। প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের প্রবীণদের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মীরা প্রবীণদের জন্য নানা রকমের ভাতার ব্যবস্থা করেন এবং প্রবীণদের সামাজিক অধিকার রক্ষার্থে কাজ করে থাকেন। এক্ষেত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রবীণকল্যাণ সংগঠন অনেক সহায়সম্বল ও আশ্রয়হীন প্রবীণদের শেষ জীবনে আশ্রয়সহ প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে থাকে। উদ্দীপকের জনাব ‘ক’ আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান নিয়ে তার প্রবীণ সময়টা কাটাতে চান। তাই তিনি একজন প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মীর জ্ঞানের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।
ঘ. প্রবীণদের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে একজন সমাজকর্মী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
প্রবীণকল্যাণে সমাজকর্মী মানবতাবোধকে দর্শন হিসেবে ধরে নিয়ে সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রবীণদের জন্য সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেন। প্রবীণরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, সে ব্যাপারে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের কী করণীয়, সে ব্যাপারে সমাজকর্মীরা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ভূমিকা পালন করতে পারেন। পারিবারিকভাবে প্রবীণদের নিরাপত্তা দেওয়া একটি সামাজিক ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য পারিবারিক শিক্ষা জোরদার করার প্রতি একজন সমাজকর্মী গুরুত্ব আরোপ করতে পারেন। প্রবীণদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় পরিবারের নতুন প্রজন্মের সদস্যদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে। প্রবীণরা নিজস্ব আদর্শ ও মূল্যবোধকে আঁকড়ে বেঁচে থাকতে চান; যে কারণে এ যুগের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাদের আদর্শগত দ্বন্দ্ব বা সমস্যা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা প্রবীণদের ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে সচেতন করে তুলতে পারেন। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি অবসর গ্রহণের পরও দেহ ও মনের দিক থেকে সুস্থ এবং সবল থাকেন; সমাজকর্মীরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজে যুক্ত করতে পারেন। রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক সেবা কার্যক্রমের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেন। সমাজে প্রবীণদের অধিকার রক্ষার চেষ্টায় বিভিন্ন পদক্ষেপ বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারেন। এভাবে নানাভাবে সমাজকর্মীরা প্রবীণদের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর