অহংকার কখনোই ভালো গুণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। এটি মানুষের সম্পর্কে অন্যদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সাধারণত একনিষ্ঠভাবে লক্ষ্য ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করা সম্ভব। তবে বাস্তবতা সব সময় এতটা সরল নয়। অনেক সময় শুধু নীরবে পরিশ্রম করলেই যথাযথ মূল্যায়ন পাওয়া যায় না।
এ কারণে কিছু পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান ও সক্ষমতা জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন পড়ে। কখনো কখনো আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ বা ‘ইগো’ তখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ, আপনি দক্ষ হলেও আপনার কাজ বা সাফল্য সব সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে নাও আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আত্মমর্যাদাবোধই হয়ে উঠতে পারে কার্যকর একটি শক্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পাঁচটি পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে ইগোই দেখাতে পারে দারুণ কার্যকারিতা।
চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার সময়
‘আমি এ কাজে দারুণ দক্ষ এবং অনেকের চেয়ে ভালো করেছি’-এ কথা কি ইন্টারভিউয়ে বসে অবলীলায় বলা যায়? বিশেষজ্ঞের মতে, অবশ্যই বলতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই আত্মমুগ্ধতা চাকরি বাগাতে সহায়ক হয়ে ওঠে। বহু গবেষণায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে নিজেকে প্রকাশের ক্ষেত্রে নমনীয় এবং বিনয়ী হওয়াটা বাঞ্ছনীয়। নিজের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জিং মন্তব্য চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের নামান্তর। আর তা অহং থেকেই বেরিয়ে আসে।
চাকরির প্রস্তাবে সমঝোতার সময়
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন হয় যে, আপনি যা চাচ্ছেন তা কোনোভাবেই দেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সমঝোতায় সাহসী হতে হবে। এখানে ইগো আপনার একান্ত বন্ধু হয়ে উঠবে। আপনি যত বেশি চাইবেন, এর চেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিতে হবে। তাই কীভাবে আপনি প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করতে সক্ষম, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরুন। এ ক্ষেত্রে ইগোকে শক্তভাবে ধরে রাখুন এবং বক্তব্য তুলে ধরুন।
দলবদ্ধ সফলতায় নিজের কৃতিত্ব প্রচার করুন
একজন কর্মী কী করছেন তার পুরোটাই কি বসরা জানেন? তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, তাদের নিজেরই অনেক কাজ পড়ে রয়েছে। তাই অনেক সময় আপনার বহু সফলতা কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়। বস যে গাণিতিক সমীকরণটা নির্ভুলভাবে মেলাবেন তা মোটেও আশা করবেন না। এক্ষেত্রে ইগোর সহায়তা নিন। দলবদ্ধ সফলতায় নিজের কৃতিত্ব দেখাতে লাজুক হয়ে উঠবেন না।
বেতন বাড়াতে ইগোর সাহায্য নিন
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ কর্মীরা তার সফলতার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু নারীরা একে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন। যদি আপনিও একে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন এবং বেতন বাড়ে, তবে আপনি সৌভাগ্যবান। আর যদি বেতন না বাড়ে তাহলে আপনাকে ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আপনি এ ক্ষেত্রে ইগোর সাহায্য নিতে পারেন। আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে অফিসের কর্তাব্যক্তিদের আরেকবার মনে করিয়ে দিন।
যখন প্রমোশন পেতে উপহাসের শিকার
প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের সেরা কর্মী হওয়া আপনার একমাত্র লক্ষ্য। এটা যখন আপনার ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ, তখন অনেকের কটাক্ষের পাল্টা তির ছুটে আসবে। কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলে শিগগিরই সহকর্মীদের উপহাসের পাত্র হয়ে উঠতে পারেন। অথচ ওই পথে ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছেন আপনি। অদম্য উদ্দীপনায় পথভ্রষ্ট হতে না চাইলে অহংবোধের বিস্ফোরণ ঘটান।
তারেক/