প্রায় সবাই চায় কর্মক্ষেত্রে বসের সঙ্গে একটি সৌহার্দপূর্ণ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সম্পর্ক বজায় থাকুক। বিষয়টি শুধু ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্যই নয়, মানসিক স্বস্তির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। বসের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হলে কর্মজীবন অনেক সময় কঠিন ও চাপপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই বেশির ভাগ চাকরিজীবীই চেষ্টা করেন বসের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে।
অনেক সময় বলা হয়, ভালো বস পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু সে কারণে চাকরি ছেড়ে আদর্শ বসের খোঁজে বেরিয়ে পড়াও বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। বরং বস যেমনই হোন না কেন, তার সঙ্গে পেশাদার ও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ জন্য অনুসরণ করা যেতে পারে ৯টি কার্যকর পরামর্শ।
এক.
একজন মানুষ তার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী আচরণ করেন। বস কী ধরনের ব্যক্তিত্বের অধিকারী, সেটা সময় নিয়ে বুঝতে হবে সবার আগে। হয়তো আপনার বস সব সময় গম্ভীর থাকেন। কম কথা বলেন। আবার এমনও হতে পারে আপনার বস খারাপ ব্যবহার করেন। কাজ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।
আবার ঠিক উল্টোটাও হতে পারে- বস ভালো ব্যবহার করেন, কিন্তু কাজের সময় সব তরল সম্পর্ক ভুলে গিয়ে আবার জটিল আকার ধারণ করেন। জানতে হবে বস শুধু ওপরে ওপরে কঠিন, নাকি পুরোটাই নিরেট। এমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা তখনই সহজ হবে যখন আপনি তাকে ভালোভাবে জানবেন।
দুই.
অনেকেই আছেন যারা নিজের যোগ্যতাকে প্রকাশ করতে চান না। এটা খুবই ভুল একটি কাজ। এমনও হতে পারে আপনার অনেক বিষয়ে যোগ্যতা রয়েছে কিন্তু আপনার বস সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সময়-সুযোগ বুঝে আপনার দক্ষতার অন্য দিকগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বসের সামনে তুলে ধরুন। বস যদি আপনার যোগ্যতায় খুশি থাকে, তা হলে অফিসের পরিবেশ আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।
তিন.
কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সাবধান হতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যে কারণে বসের রোষানলে পড়তে হয়। এমনিতেই বস কঠিন, তার ওপর আপনি যদি এমন কিছু করেন, যাতে বসের সঙ্গে আপনার দূরত্ব আরও বেড়ে যায়, তা হলে সেটা হবে খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই এসব ক্ষেত্রে আপনাকে সাবধান হতে হবে।
চার.
বসকে বসের মতো থাকতে দিন। বসের আচার-আচরণ পরিবর্তন করার মিশনে নামা আপনার কোনো সময়ই ঠিক হবে না। কখনোই ভাববেন না, আপনি বসের এই চরিত্র পাল্টে তাকে সহজ ও হাসিখুশি বানিয়ে ফেলবেন। বরং নিজেকে বসের পছন্দের মতো ধরে রাখার চেষ্টা করুন। এই কাজে অনেক ধৈর্য দরকার হলেও সেটাই সহজ সমাধান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আপনার কাজ পছন্দ করলে তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কও অন্যদের তুলনায় সহজ হয়ে যাবে।
পাঁচ.
বসের জন্মদিনে বিভাগে কেক কাটা, লাঞ্চ বক্সের খাবার অফার করা, গিফট দেওয়া এগুলো খুবই পুরোনো প্রথা। আপনার কাজের মধ্যে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করুন। বসের জমে থাকা কাজে নিজে থেকে সাহায্য করতে এগিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো জটিল কাজে ভালো সমাধানের পরামর্শ দেওয়া। হতে পারে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে পুরোনো ফরম্যাট ভেঙে নতুন কিছু নিরীক্ষা করা- এ ধরনের নতুন বিষয়গুলো চেষ্টা করতে পারেন। আর উপহার যদি দিতেই চান, তা হলে বসের প্রিয় বিষয়টি জেনে নিন এবং সে অনুযায়ী উপহার দিন।
ছয়.
বসের সঙ্গে সুসম্পর্কের সবচেয়ে ভালো উপায় নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা। নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। যাতে সবাই আপনার কাজের প্রশংসা করেন। নিজের অবস্থান বিভাগের অন্যদের কাছে আরও উঁচুতে তুলে ধরুন। দেখবেন- বসের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক খুব সহজেই ভালো হয়ে যাবে। ফলে অফিসে কাজ করতে আপনার সুবিধা হবে।
সাত.
অনেকেই আছেন যারা কাজে ফাঁকি দিতে পটু। তারা কাজ বাদ দিয়ে শুধু তোষামোদি করে বসের মন জয় করতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বসেরও প্রকারভেদ আছে। আপনাকে বুঝতে হবে, যে বস কাজ পছন্দ করেন তাকে আপনি কাজ দিয়েই জয় করতে পারবেন, অন্য কিছুতে তার মন গলবে না। সুতরাং কোন পথ বেছে নেবেন সেটা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।
আট.
বেশির ভাগ বসই নির্লজ্জ তোষামোদি পছন্দ করেন না। অন্যদিকে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশংসা কিন্তু প্রায় সবাই পছন্দ করেন। যথাযথ প্রশংসাও বসের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে আচরণ করতে হবে। যথাযথ কাজ বা ব্যবহারের প্রশংসা করুন। তোষামোদি হয়ে বিষয়টি হিতে বিপরীত হলে চাকরিটাও হারাতে হতে পারে।
নয়.
অফিসে আপনি দুর্ব্যবহারের শিকার হতে পারেন, অপমানিত হতে পারেন, সবার সামনে আপনার মাথা নিচু হতে পারে। তার পরও ধৈর্য হারাবেন না। বসের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনার কারণে যেন বসের মুখ উজ্জ্বল হয় তার জন্য কাজ করে যাবেন। হয়তো সময় লাগতে পারে, কিন্তু একদিন আপনার বস অবশ্যই আপনাকে বুঝবেন এবং সম্পর্ক কঠিন থেকে সহজতর হবে। অনুপ্রাণিত কর্মকর্তাদের কাছে- বস ইজ গ্রেট, বস ইজ অলওয়েজ রাইট। তবে বিপরীত দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এত কিছু করার পরও যদি বসের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে না ওঠে, তা হলে জীবন বিসর্জন দেবেন না। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন। এসব ক্ষেত্রে আপনাকে বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইন্টারনেট অবলম্বনে
তারেক/