সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীন দিল্লি পুলিশ একটি চিঠিতে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করেছে। এ নিয়ে কলকাতার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা প্রশ্ন তুলেছে। বাংলা ভাষাকে কেন ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা হয়েছে সেটা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্কের।
সেখানকার মানুষ নিজেদের মতো করে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ নিয়ে চুপ থাকতে পারেননি ওপার বাংলার শোবিজের দুই তারকা- নির্মাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এই দুজন নিজেদের ফেসবুক পোস্টে দিল্লি পুলিশের এমন কাণ্ডে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় নিজেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র। একটা সময় শিক্ষকতাও করেছেন। তাই তিনি সেই বিতর্কিত চিঠির ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে কৌশিক লিখেছেন, ‘‘বাংলা ভাষা আমার প্রিয় বিষয় শুধু নয়। ৮ বছর আমি শিক্ষকতা করেছি বাংলা ভাষার শিক্ষক হিসেবে। ‘বাংলাদেশি ভাষা’র ‘টেক্সট’ বলে কোনও কিছুর অস্তিত্ব আছে, জানতাম না। সেই ভাষা অনুবাদ না করলে তদন্ত বিঘ্নিত হচ্ছে এই চিঠিতে পড়লাম!
দিল্লিতে অজস্র বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার বহু শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকেরা আছেন। প্রশাসন কি পারে না তাদের কাছে গিয়ে নিজেদের বাংলা ভাষা সম্পর্কে ধারণাটা স্বচ্ছ করতে? উইলিয়াম কেরি বাংলা ভাষাটা প্রাণ দিয়ে শিখেছিলেন বাংলার আত্মাকে বুঝতে।
আজকের প্রশাসন বাংলা বিষয়ে অস্বচ্ছ হলে সাহায্য নিন। না হলে প্রশাসনিক চিঠিতে নিজেদের মারাত্মক অজ্ঞতা এমন বারবার সামনে আসবে। বাংলা ভাষা থেকে হাজারটা আঞ্চলিক উপভাষা তৈরি হলেও, ‘টেক্সট’ একমাত্র বাংলা। ধন্যবাদ।”
বিষয়টি নিয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও দীর্ঘ এক পোস্ট করেছেন। অভিনেতা প্রথমেই জানিয়েছেন, তার বক্তব্যে কোনও রকমের রাজনীতি নেই।
এই অভিনেতা লিখেছেন, “ভারতের রাজনীতিতে আমার যে সামান্য আগ্রহ ছিল, তা ক্রমশ হারিয়ে ফেলেছি।” কৌশিকের মতোই পরমও খোঁচা দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে আলাদা কিছু রয়েছে, তা তিনি জানতেন না। অভিনেতার কথায়, ‘উপভাষা আলাদা হতে পারে। কিন্তু ভাষাটা একই। আমাদের ভাষা, আমাদের মাতৃভাষা- বাংলা।’
দেশে বাংলা ভাষার অবস্থান ঠিক কোথায়, তা নির্দিষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন পরমব্রত। এই ভাষাতে কাজ করে এসেছে নোবেল পুরস্কার। ‘‘দেশভাগের পর থেকে আলাদা হয়েছে দুই বাংলা। কিন্তু ভাষা একটাই। পাঞ্জাবও দেশভাগ দেখেছে। তাই আজও পাকিস্তানের বহু মানুষ পাঞ্জাবি ভাষায়, এমনকি গুজরাটি ও সিন্ধি ভাষাতেও কথা বলেন। তা হলে কি পঞ্জাবি ভাষাকে ‘পাকিস্তানি ভাষা’ বলা হয়?’’ প্রশ্ন তুলেছেন পরমব্রত।
বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা কি স্রেফ ভুল? বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজমা শুরু হয়েছে তৃণমূল ও পদ্মশিবিরের মধ্যে।
/এমএস