ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু খুলনায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের ২১ পরিবারে আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার আদ্-দ্বীন থেকে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জাককানইবির এক শিক্ষার্থীর রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ‘কষ্টদায়ক শিক্ষা’, বললেন প্যারাগুয়ে কোচ আলফারো সফল ব্যবসায়ী হতে চাইলে এড়িয়ে চলুন ৯টি বিষয় মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২ যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১ ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার
Nagad desktop

ঔপন্যাসিক জহির রায়হান: সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তরঙ্গ পাঠ

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৫ এএম
ঔপন্যাসিক জহির রায়হান: সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তরঙ্গ পাঠ
জহির রায়হান

জহির রায়হান জীবন, রাজনীতি ও ইতিহাসকে এক করে গড়ে তুলেছেন বহুমাত্রিক ও বাস্তব শিল্প। ভাষা-আন্দোলন, নিপীড়িত মানুষ, স্বপ্ন, নাগরিক সংকট কিংবা বিশ্ব রাজনীতি- সবকিছুই সেখানে প্রতিফলিত। মাত্র আটটি উপন্যাস লিখেও তিনি কথাশিল্পের আঙিনাকে ঋদ্ধ করেছেন। তার উপন্যাসগুলোয় সময়ের বিবর্তন স্পষ্ট। তার চিন্তায় মানবতাবাদ তীব্র অন্তঃস্রোতী।…

পিতামাতার ইচ্ছে ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ খান ডাক্তার হবেন। কিন্তু অনুরাগবশত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হলেন। রায়হান নামে প্রবেশ করলেন লেখার জগতে। তার পর মূল নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হলেন জহির রায়হান। ঢাকা আলিয়া মাদরাসার ফিকহ্ শাস্ত্রের শিক্ষক পিতা ছিলেন ধর্মপ্রাণ, আদর্শবান ও উদারপ্রাণ। মাতা সৈয়দা সুফিয়া খাতুনের লেখাপড়া নবম শ্রেণি পর্যন্ত কিন্তু ছিলেন সচেতন মানুষ। বৃত্ত ভাঙার অন্তর্দৃষ্টি ও সত্যনিষ্ঠা ছিল তার মধ্যে।  

৩৬ বছরের জীবন! ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ হলেন। বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসা হলো না। বেঁচে থাকলে জহির রায়হানের হাত দিয়ে নির্মিত হতো অগ্নিঝরা জীবনের আরও অনেক কথকতা। তিনি হতে পারতেন পৃথিবীখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা। তবে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এ দেশের রাজনীতিসচেতন সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং আপসহীন সাংবাদিক। তিনি একাধারে কাহিনিকার, চিত্রনাট্য রচয়িতা, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজক। সেকালের প্রথম রঙিন ছবি ‘সংগম’, প্রথম সিনেমাস্কোপ ‘বাহানা’ তিনিই নির্মাণ করেন। 

তখন তিনি হাইস্কুলের ছাত্র। নিরীহ বাঙালির ওপর প্রচণ্ড অত্যাচার চলছে। খুবই অল্প বয়সের লেখা কবিতায় তার যে মনোভাব প্রকাশিত, তা যেন বহমান থেকেছে আমৃত্যু: ‘ওদের জানিয়ে দাও,/ ওরা আমার ভাই-বোনকে কুকুর বিড়ালের মত মেরেছে/ ওদের স্টীম রোলারের নিচে…।’ প্রচণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দেশকালের সংকটের মধ্যদিয়ে কেটেছে জহির রায়হানের ছাত্রজীবন। ঢাকাকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত সমাজের স্বপ্ন সম্ভাবনার নতুন দেশ ও চৈতন্য নির্মাণের অংশীদার হয়েছেন তিনি। দেশের অনুভবেই স্নাত হয়েছেন আজীবন। 

বাংলা উপন্যাসে জহির রায়হান জীবন, রাজনীতি ও ইতিহাসকে এক করে গড়ে তুলেছেন বহুমাত্রিক ও বাস্তব শিল্প। ভাষা-আন্দোলন, নিপীড়িত মানুষ, স্বপ্ন, নাগরিক সংকট কিংবা বিশ্ব রাজনীতি- সবকিছুই সেখানে প্রতিফলিত। মাত্র আটটি উপন্যাস লিখেও তিনি কথাশিল্পের আঙিনাকে ঋদ্ধ করেছেন। তার উপন্যাসগুলোতে সময়ের বিবর্তন স্পষ্ট। তার চিন্তায় মানবতাবাদ তীব্র অন্তঃস্রোতী। 

‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ (১৯৬০) জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস। মানুষের একাকিত্ব, আবেগ, প্রেম ও প্রত্যাখ্যান এর কেন্দ্রীয় ভাবনা। কাসেদের জীবনযাপন একেবারে সাধারণ হলেও তার ভেতরে অসংখ্য না বলা কথা, চাপা আবেগ ও শূন্যতা। অপ্রকাশিত প্রেম যেন নাড়ার আগুন। দহন ও নিঃসঙ্গতার আখ্যানটি যেন হয়ে ওঠে নিঃশব্দ মানুষের আত্মপ্রতিবেদন। ‘তৃষ্ণা’ (১৯৬২) উপন্যাসেও রয়েছে প্রেম ও যাপনের মধ্যে দ্বন্দ্বের ছবি। এটি যেন ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’র রোমান্টিক উত্তরসূরি। কিন্তু এখানে প্রেম শুধু হৃদয়াকাঙ্ক্ষা নয়, সামাজিক বাস্তবতার নিরিখ। তা কেবল বাধা আর অনিশ্চয়তার সুতীব্র দোলাচল।

পরবর্তী উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ (১৯৬৪) আবহমান গ্রামীণ বাংলার বহুল পরিচিত ছবি। ধর্ম, সংস্কার, দারিদ্র্য ও প্রেম- সবকিছু এখানে নিত্যসঙ্গী। তারা ছায়ার মতো চলেছে চরিত্রগুলোর পেছনে। টুনির চরিত্র, মকবুলের মৃত্যু কিংবা পরীর দীঘির পাড়ে দাঁড়ানোর দৃশ্য- এসব শুধু গ্রামের গল্প নয়, বরং হাজার বছরের বঞ্চনার হলাহল। এখানে রয়েছে কৃষকের প্রবল দুর্দশা, সমাজের সীমাহীন স্তব্ধতা। এক অনুপম ভাষায় পরিবর্তনের অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষা এখানে প্রকাশিত।

ঐতিহাসিকভাবে ‘আরেক ফাল্গুন’ (১৯৬৯) ভাষা-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা প্রথম উপন্যাস। মুনিম, আসাদ, সালমা, ডলি- চরিত্রগুলো রাজনৈতিক আদর্শে দীপ্ত, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বেও জর্জরিত। প্রেম ও রাজনীতির দোদুল্যমান সংকট এতে জটিল অভিজ্ঞতায় সঞ্চারিত। লেখকের দৃঢ় বিশ্বাস, অন্যায়ের সঙ্গে থাকতে হবে নিরাপস। এ চেতনা পাঠকের রক্তে আগুন জ্বালিয়ে রাখে।

চতুর্থ উপন্যাস ‘বরফ গলা নদী’ (১৯৬৯) প্রতিবাদ ও নিঃশেষিত স্বপ্নের কথকতা। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা এক শহুরে মুসলিম পরিবারের অসহায়ত্ব, ক্ষোভ, যন্ত্রণা প্রভৃতি প্রকাশ পেয়েছে এতে। রাজনীতিসচেতন মাহমুদ বাস্তবে অসহায়, ভুক্তভোগী। পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে তার ভিতরে জমে থাকে তীব্র সংক্ষোভ। বৃহত্তর সমাজ-সংকটের রূপ তুলে ধরে এ উপন্যাস যেন হয়ে ওঠে এক প্রবল জাগরণ- সামন্ততন্ত্র ও শহুরে ভণ্ডামি যেখানে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ।
 
‘আর কত দিন’ (১৯৭০) উপন্যাসটি লেখকের অনবদ্য নির্মাণকৌশলের উদাহরণ। এখানে বাস্তবতা ও প্রতীকের অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে। কাঠের বাক্সে বন্দি যন্ত্রণাদগ্ধ একদল মানুষ। তপু ও ইভা পালিয়ে বেড়ায়। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সংকট দেখা দেয়। এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তানের মৃত্যুদৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সব মিলিয়ে এতে যুদ্ধ ও মানবতার দ্বন্দ্ব প্রতীকী ভাষায় উপস্থাপিত। আখ্যানে যেন এক পরম বিশ্ববোধ ছড়ানো। 

‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ (১৯৭০), নামেই বোঝা যায় এটি ভাষা আন্দোলনের সাহসী শিল্প-চিত্র। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চরিত্রে উঠে আসে রাষ্ট্রভাষার দাবির প্রতি জনগণের প্রত্যয়। চাষি গফুর, ছাত্র তসলিম, কবি আনোয়ার কিংবা রিকশাচালক সেলিম- সবাই নতুন চৈতন্যের বাহক। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামী চেতনা পাঠকের হৃদয়েও স্পন্দন তোলে। অন্যদিকে ‘কয়েকটি মৃত্যু’ স্বপ্ন তাত্ত্বিক উপন্যাস। একসময় স্বপ্ন, হস্তরেখা, আধিভৌতিকতার চর্চা করেছেন জহির রায়হান। পিতা ও পিতৃব্যের আকস্মিক মৃত্যুর স্মৃতি তাকে তাড়া করেছে সবসময়। আহমদ আলী চরিত্রের অবচেতন মানসলোক যেন সেখান থেকেই তৈরি। মৃত্যু-সংকেতময় দুঃস্বপ্ন দর্শন করে সে। সংকটগ্রস্ত মনের চিত্র-অংকনে উপযুক্ত আলোক ফেলতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। নারী চরিত্রে তিনি দেখান যে, আত্মকেন্দ্রিক ভাবনা কখনো মাতৃত্বকে স্পর্শ করে না। এক অনন্য স্বপ্নকল্পনাময় পরিস্থিতির উপস্থাপনায় তিনি অন্তর্গত জীবনসত্যকেই উদ্ভাসিত করেছেন। প্রতীকী মৃত্যুর অবভাস তৈরি করে তিনি ব্যতিক্রমী এক আখ্যান নির্মাণ করেছেন। 
 
জহির রায়হানের উপন্যাসগুলো ধারাবাহিকভাবে পাঠ করলে সময় ও পরিস্থিতির বিচিত্র অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ মানুষের ছবি পাওয়া যায়। লেখক হিসেবে তিনি সময়ের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। তবে সেই দায় তিনি চাপিয়ে দেননি, বরং চরিত্রদের মধ্য দিয়ে তা প্রগলভ বয়ানে উঠে এসেছে। তার উপন্যাসের ভাষা সংযত, প্রাঞ্জল ও অতলস্পর্শী। আখ্যানে সঞ্চারিত আবেগ, সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও মানবতার স্বপ্ন- সবকিছুর সংমিশ্রণে জহির রায়হানের উপন্যাস হয়ে উঠেছে অবিস্মরণীয় কালের কথন। তার উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সমাজের অন্তর্গত বিবর্তন ধরা পড়েছে। তার প্রতিটি রচনায় প্রতিধ্বনিত হয় একেকটি প্রবল বার্তা। তিনি যেন বলতে চান- প্রতিবাদ করো, প্রশ্ন তোলো, আর স্বপ্ন দেখো অনাগত সুন্দর দিনের।

লেখক: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ