ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
Nagad desktop

কবি আল মাহমুদের সমালোচক-সত্তা

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২২ পিএম
কবি আল মাহমুদের সমালোচক-সত্তা
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

আল মাহমুদ রবীন্দ্রচিন্তা অনুধাবন করে বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ হলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের আত্মা। বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন যেকোনো লোকের চিরকাল অহংকার করার মতো যদি কিছু অক্ষয় সম্পদ থেকে থাকে, তাহলো তার সাহিত্য। আর এ সাহিত্য-সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি অংশটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একার সৃষ্টি। এ যে কেমন অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, আমি তোমাদের কী করে বোঝাব! কিছুকাল পরে তোমরা যখন প্রাচীন বাংলা সাহিত্য পড়তে পড়তে হঠাৎ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দ্বারদেশে এসে দাঁড়াবে আর দেখবে বিশাল সোনার তোরণ আকাশ ভেদ করে দাঁড়িয়ে আছে, তখন তোমরা বুঝতে পারবে রবীন্দ্রনাথ আমাদের জন্য কী কাণ্ড করে গেছেন!’

আল মাহমুদ বাংলা কবিতার এক সুউচ্চ মিনার। পঞ্চাশের দশকের কবিদের মধ্যে তিনি কেবল শীর্ষস্থানীয়ই নন, স্বতন্ত্র এক ঘরানার উদ্যোক্তা। কিন্তু স্বৈরাচারের সমর্থন আর বিরোধিতার সূত্র ধরে আল মাহমুদ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে ছিলেন। কেবল কলমের জোরেই সেসব বাধা অতিক্রম করে আল মাহমুদ ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যখন দেশের কবি-শিল্পী-সাংবাদিক রাজপথে, তখন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আয়োজন করেন এশীয় কবিতা উৎসব। উদ্দেশ্য ছিল কবি-সাহিত্যিকদের সমর্থন আদায়। এরশাদ যেহেতু নিজের নামে ‘কনক প্রদীপ জ্বালো’ প্রকাশ করেছেন, যেহেতু পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় তার নামে  কবিতা ছাপা হয়, তখন তিনি কবিতা উৎসবের আয়োজন করে কবিদের মধ্যমণি হয়ে উঠতে চাইলেন। তার সেই এশীয় কবিতা উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হন সৈয়দ আলী আহসান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আল মাহমুদ, ফজল শাহাবুদ্দীন প্রমুখ খ্যাতিমান কবি। সরকারির চাকরি করেন এমন কজন কবিও এতে অংশ নিতে বাধ্য হন। এই এশীয় কবিতা উৎসবের প্রতিবাদে সে সময়ের তরুণ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও মোহন রায়হানের উদ্যোগে গঠিত হয় জাতীয় কবিতা পরিষদ। তাদের  গঠিত জাতীয় কবিতা পরিষদ এবং আয়োজিত কবিতা উৎসবে যোগ দেন কবি বেগম সুফিয়া কামাল, কবি আবুল হোসেন, কবি ফয়েজ আহমদ, কবি  জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, কবি শামসুর রাহমান, কবি সৈয়দ শামসুল হক-সহ ষাট-সত্তর-আশির-দশকের কবিরা। এরশাদের পতনের আগেও এশীয় কবিতা উৎসব আর কবিতা কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ে। জাতীয় কবিতা পরিষদ এখনো সচল রয়েছে। কিন্তু পঞ্চাশের কবিতায় রাহমান-মাহমুদ নামে দুটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনো বহমান।

আল মাহমুদ কবি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ছোটোগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ছড়া রচনায় সিদ্ধিকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এমনকি সাহিত্য-সমালোচনায়ও তার মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। আবার ছোটোদের উপযোগী গ্রন্থের সমালোচনায় তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তার বিচ্ছিন্ন রচনাগুলো ‘তোমাদের জন্য বই’ (২৯২৩) নামে  গ্রন্থিত হয়েছে ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে। আমরা এখানে একজন আল মাহমুদের সমালোচক-সত্তার পরিচয় পেয়ে গৌরব বোধ করতে পারি। তিনি যেসব লেখক-সম্পাদকদের বই নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তারা হলেন সুফিয়া কামাল, আহসান হাবীব, ফররুখ আহমদ, হাবীবুর রহমান, শামসুল হক, আতোয়ার রহমান, আবুল কাশেম চৌধুরী, হালিমা খাতুন, হায়াৎ মামুদ ও শামসুজ্জামান খান। 

সুফিয়া কামালের ছড়ার বই ‘ইতল বিতল’ নিয়ে ছোটোদের কাছে সহজ-সরল ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সুফিয়া কামালের সঙ্গে তোমাদের সবারই অল্পবিস্তর পরিচয় আছে। ক্লাসের পাঠ্যবই থেকে শুরু করে অসংখ্য পত্রপত্রিকায় এখনো তিনি নিয়মিত লিখে থাকেন। কৈশোর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত তিনি অক্লান্তভাবে লিখে গেছেন। এখনো যে তিনি লিখতে পারেন ‘ইতল বিতল’ই তার প্রমাণ।’ সুফিয়া কামালের সাহিত্যের প্রতি আস্থা ও প্রশংসা জানাতে এটুকু মন্তব্যই যথেষ্ট এবং তা জানাতে কার্পণ্য করেননি আল মাহমুদ। বিখ্যাত কিশোর-উপন্যাস ‘রাণীখালের সাঁকো’ নিয়ে বলতে গিয়ে আহসান হাবীবের কবিত্বের কথা বলেছেন। তার পর উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ শেষে পেশ করেছেন মন্তব্য, ‘একটি নিটল গল্প রূপকথার ভাষায় তিনি তোমাদের জন্য সাজিয়েছেন’। এটুকুতেই উপন্যাসটির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। ফররুখ আহমদের ‘পাখীর বাসা’ বই নিয়ে আলোচনার সুযোগে আল মাহমুদ লিখেছেন, ‘পাখীর বাসা’ বইটিতে শুধু যে পাখিদের ঘর-সংসার সম্বন্ধে বলা হয়েছে, তা নয়। এই বইয়ে ‘পাখ-পাখালী’ নামের একটি অংশে পাখিদের স্বভাব-চরিত্র সম্বন্ধে অনেক বৃত্তান্ত বলা হয়েছে, আর এমনভাবে হয়েছে, যাতে রচনাগুলো ইচ্ছে করলেই তোমরা সুর বেঁধে গান বানিয়ে ফেলতে পার এবং অনায়াসে গাইতেও পার। বোঝো, কেমন মজার ব্যাপার! সবগুলো পাখি আর তাদের বাসা সম্বন্ধে একটা করে গান জানা থাকলে তোমাদের কেমন আনন্দ হয়।’ বলেছেন শিশু-কিশোর পাঠকদের উদ্দেশ্যে, যাতে এই সমালোচনা পড়ে তারা উদ্বুদ্ধ হয় ফররুখের বই পড়তে।

হাবীবুর রহমানের ‘হীরা মতি পান্না’ গ্রন্থের আলোচনা করতে তার কবিত্ব নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি গল্পের ভাষা নিয়েও চমৎকার কথা বলেছেন। মাহমুদের ভাষায়- ‘হাবীবুর রহমানের গল্প বলার ঢংটাই আলাদা। তার গদ্যভঙ্গিতে এমন কবিত্ব আছে যে একবার পড়া আরম্ভ করলে শেষ তো করতেই হবে এবং তার পরও কতক্ষণ বইটি হাতে নিয়ে চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে করে। লেখক এ দেশের একজন নামকরা সনেট রচয়িতা। কবি বলেই হয়তো তার গদ্যরচনায় কাব্যগন্ধী শব্দের প্রয়োগ বেশি। হীরা মনিক পান্নার সারাংশ এমন ঝরঝরভাবে স্পষ্ট করে তোলা হয়েছে যে প্রত্যেকটি রচনা জমাট এবং নিখুঁত হয়েছে।’ সমালোচনার ভাষাও যে ঝরঝরে হতে পারে আল মাহমুদ তা করে দেখালেন। শামসুল হকের ‘বই পড়া ভারী মজা’, আতোয়ার রহমানের ‘টুনটুনের বাঁশী’, হালিমা খাতুনের ‘সোনা পুতুলের বিয়ে’ প্রভৃতি বই নিয়ে এমন সুন্দর আলোচনা করেছেন, যা পড়ে কেবল ছোটোরাই নন, অভিভাবকরাও উপকৃত হবেন। মৌলিক বইয়ের পাশাপাশি আবুল কাশেম চৌধুরী ও শামসুজ্জামান খানের দুটি সম্পাদনা বইও তার সমালোচনার দৃষ্টিতে রয়েছে। বাদ পড়েনি হায়াৎ মামুদের ‘রবীন্দ্রনাথ: কিশোর জীবনী’। এ আলোচনা-সূত্রে আমরা আল মাহমুদের রবীন্দ্রচিন্তাও অনুধাবন করতে পারি। তিনি বলেছেন-

‘রবীন্দ্রনাথ হলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের আত্মা। বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন যেকোনো লোকের চিরকাল অহংকার করার মতো যদি কিছু অক্ষয় সম্পদ থেকে থাকে, তাহলো তার সাহিত্য। আর এ সাহিত্য-সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি অংশটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একার সৃষ্টি। এ যে কেমন অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, আমি তোমাদের কী করে বোঝাব! কিছুকাল পরে তোমরা যখন প্রাচীন বাংলা সাহিত্য পড়তে পড়তে হঠাৎ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দ্বারদেশে এসে দাঁড়াবে আর দেখবে বিশাল সোনার তোরণ আকাশ ভেদ করে দাঁড়িয়ে আছে, তখন তোমরা বুঝতে পারবে রবীন্দ্রনাথ আমাদের জন্য কী কাণ্ড করে গেছেন!’

আল মাহমুদের এ সমালোচনা নিবন্ধগুলো প্রকাশিত হয়েছিল সৈয়দ মোহাম্মদ শফি ও এখলাসউদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘টাপুর টুপুর’ পত্রিকায় ১৯৬৬-৬৭ সালে। ঐতিহ্য প্রকাশনীর আরিফুর রহমান নাইমকে ধন্যবাদ এ লেখাগুলো গ্রন্থনার মাধ্যমে আল মাহমুদের সমালোচক-সত্তাকে তুলে ধরার জন্য। আল মাহমুদ যে সমালোচনা-সাহিত্যেও দক্ষতার ছাপ রেখেছেন, এ শিশুতোষ রচনাগুলোই তার প্রমাণ বহন করে।

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ