আওয়ামী লীগকে ছাড়া বাংলাদেশে সত্যিকার সংস্কার ও নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। একই সঙ্গে দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এ সময়সীমা তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে গত সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছিলেন, এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গণতন্ত্রে ফেরা উচিত।
সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত একটা প্রত্যাশিত সময়সূচি অন্তত আমরা পেলাম। তাতে আমি খুশি। দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে অর্থবহ সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়া বা নির্বাচন করা অসম্ভব।’
২০০৭-৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘যদিও এ রকম নাটক আমরা আগেও দেখেছি, যেখানে একটি অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বসবাসকারী সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ আলোচনার জন্য তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। তিনিও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
তার দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
গত মাসে জয় রয়টার্সকে বলেছিলেন, তার মা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আর আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে চায়। শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরতে পারেন- এর জবাবে জয় বলেন, এটা তার ওপরেই নির্ভর করবে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশে কতগুলো সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করেন সজীব ওয়াজেদ। ২০০৭ সালে যখন সেনাসমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেই সরকারের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর গত ৫ আগস্ট পদত্যাগের আগে শেখ হাসিনা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় পরবর্তী ঘটনাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেনাবাহিনী।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করছেন। সরকারের স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টায় সমর্থন দিচ্ছে সেনাবাহিনী।