রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে তিন শতাধিকেরও অধিক যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে দেশ দুটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যস্থতায় এই বিনিময় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৫০ জন ইউক্রেনীয় সৈন্যকে মুক্তি দিয়ে সমানসংখ্যক রুশ সৈন্যকে ফেরত নিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মোট ১৮৯ জন ইউক্রেনীয় বন্দি তাদের দেশে ফিরে এসেছে।
তিনি আরও জানান, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অজভস্টাল ও মারিউপোলের প্রতিরক্ষা যোদ্ধা, চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কৃষ্ণ সাগরের স্নেক আইল্যান্ডের সৈন্যরা রয়েছেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত ইউক্রেনীয় বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে উত্তর ইউক্রেনের একটি জায়গায় পুনর্মিলিত হয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমের মারিউপোল শহর থেকে ২০২২ সালে বন্দি হওয়া ওলেক্সান্ডারের স্ত্রী আলিনা বিবিসিকে বলেন, ‘আমি খুব আবেগতাড়িত। এই সময়টা খুব কঠিন ছিল। আমি শুধু ওকে দেখতে চাই।’
যুদ্ধবন্দি থেকে মুক্তি পাওয়া আনাতোলি বলেন, ‘এটি আমার জন্য আবেগঘন মুহূর্ত। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, এই দিনটি এসেছে। আমরা দেশে ফিরেছি। এখন আমরা ইউক্রেনের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’
আরেকজন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি ইগর বলেন, ‘নিজের দেশে, নিজের মাটিতে ফিরে আসতে পেরে আমি খুব খুশি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া রুশ সৈন্যদের বেলারুশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসাসেবা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার তাতিয়ানা মস্কালকোভা জানিয়েছেন, মুক্তি পাওয়া রুশ সৈন্যরা খুব শিগগিরই তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হবেন এবং নববর্ষ উদযাপন করবেন।
এদিকে ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৫৯তম বন্দি বিনিময় করল রাশিয়া-ইউক্রেন। এটি অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধবন্দি বিনিময়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা রাশিয়ার বন্দিত্ব থেকে প্রত্যেককে মুক্ত করার জন্য কাজ করছি। এটি আমাদের লক্ষ্য। আমরা কাউকেই ভুলে যাব না।’
তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বন্দি বিনিময়ের আলোচনাগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কারণ রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে বেশ সফলতা অর্জন করছে।
ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার হাতে এখনো প্রায় আট হাজার ইউক্রেনীয় বন্দি রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
তাওফিক/