জার্মানিতে অবস্থিত সিরিয়ার কিছু শরণার্থীকে দেশে ফিরতে হতে পারে, বলেছেন জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফিশার। গত মাসে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা ডয়েচে ভেলেতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
বর্তমানে সিরিয়ার প্রায় ১০ লাখ নাগরিক জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়পুষ্ট। তবে দেশটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু শরণার্থীকে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। ন্যান্সি এই সিদ্ধান্তেরই পুনরাবৃত্তি করলেন।
সিরিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেই জার্মানির ফেডেরাল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রেফিউজিস (বিএএমএফ) পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কিছু শরণার্থীকে জন্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
‘পরস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরেও যারা স্বেচ্ছায় ফিরে যাবে না, চাকরি বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জার্মানিতেই অবস্থান করতে চাইবে তাদেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।’, বলেন ন্যান্সি।
তবে জার্মান সমাজে মিশে গেছেন এমন সিরীয়দের জোর করে দেশে পাঠানো হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা ইতোমধ্যে জার্মানির ভাষা শিখে নিয়েছেন, চাকরি পেয়েছেন, এখানে স্থির হয়ে বসবাস করতে শুরু করেছেন তাদের ফেরত যেতে হবে না।’
তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ও প্রতিক্রিয়াশীলদের অবশ্যই সিরিয়ায় পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ন্যান্সি।
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ১ মিলিয়ন সিরীয় শরণার্থী অবস্থান করছেন। বেশিরভাগই ২০১৫ সালের গৃহযুদ্ধের সহিংসতা এড়ায়ে পালিয়ে এসেছিলেন।
এদিকে সিরিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলে জার্মানির অবস্থান এখনো স্পষ্ট না। সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্নালেনা বায়েরবক সিরিয়ায় অন্তর্ভূক্তিমূলক সরকারব্যবস্থা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দামেস্ক সফর করেছেন।
জার্মানির নীতিমালায় এখনো কোনো পরিবর্তন না আসলেও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির অবস্থান পাল্টানোর সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: ডয়েচে ভেলে
নাইমুর/