আরজি করকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয়ের ফাঁসি হবে, নাকি তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা ছিল কলকাতায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাঁসির সাজা হলো না সঞ্জয়ের। তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন কলকাতার শিয়ালদহ আদালত। সিবিআইয়ের দেওয়া প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে গতকাল সোমবার সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি অনির্বাণ দাস।
মোট তিন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সঞ্জয় রায়কে। এর মধ্যে একটি হলো ধর্ষণের পর হত্যা। ওই তিন অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরিবারকে ১৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে নিহত চিকিৎসকের পরিবার তা নেবে না বলেই জানিয়েছে।
গতকাল দোষী সাব্যস্ত হওয়া সঞ্জয় রায়ের বক্তব্যও শুনতে চান বিচারক। এ সময় আবারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন সঞ্জয়।
তিনি জানান, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে।
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল থেকে বিরলতম ঘটনা বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করার দিনেই সর্বোচ্চ সাজার অনুরোধ জানানো হয়। নিহত ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকেও সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবি জানানো হয়। তবে সঞ্জয় রায়ের আইনজীবীর পক্ষ থেকে বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানানো হয় যে তাকে যেন ফাঁসি ছাড়া আর যেকোনো ধরনের সাজা দেওয়া হয়।
তবে এ মামলা নিয়ে শুরু থেকেই নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেরই অভিযোগ, বড় কোনো ব্যক্তিকে আড়াল করতেই সঞ্জয় রায়কে ফাঁসানো হয়েছে। ওই ধর্ষণের সঙ্গে আরও ব্যক্তি জড়িত। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুমুল কথাবার্তা হতে দেখা গেছে।
সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগও তুলেছিলেন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই নারীর বাবা। তবে সিবিআই বলছে, এ কাণ্ড সঞ্জয়ের একার পক্ষেই ঘটানো সম্ভব। আদালতের বিচারকও বলেছেন, তার সামনে সিবিআই যেসব প্রমাণ দিয়েছে, তাতে সঞ্জয়কেই দোষী সাব্যস্ত করছেন তিনি।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়ে সন্তুষ্ট হননি। তিনি বলেন, ‘আমি এই সাজায় সন্তুষ্ট নই। ফাঁসি হলে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন প্রশ্ন করা হয়, সিবিআইয়ের আইনজীবীর কি কোনো খামতি ছিল? সিবিআইয়ের তদন্তে কি কোনো ফাঁক ছিল বলে মনে করেন? জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তা আমি বলতে পারব না। ওরা কী করেছে। তবে আমি তো একজন আইনজীবী। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই।’
গত বছরের ৯ আগস্ট ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ১০ তারিখ গ্রেপ্তার হন সঞ্জয়। ঘটনার ১৬২ দিনের মাথায় সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করেন শিয়ালদহ আদালত। আর ১৬৪ দিনের মাথায় ঘোষণা হলো সাজা।