আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরবে বৈঠকে বসতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা, যার উদ্দেশ্য ইউক্রেন-মস্কোর প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন আইনপ্রণেতা ও পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় এই আলোচনায় ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং কিয়েভ তার কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ না করে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ এই আলোচনার জন্য সৌদি আরবে যাবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি মাইকেল ম্যাককাউল। তবে তারা রাশিয়ার কোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের এক ফাঁকে ম্যাককাউল বলেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা, যাতে এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সৌদি আরবে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত বুধবার তিনি পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা ফোনালাপ করেছেন। যা ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে যে, তারা হয়তো এই শান্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারেন।
এই আশঙ্কা শনিবার আরও বেড়ে যায় যখন ট্রাম্পের ইউক্রেনবিষয়ক দূত বলেন, ইউরোপের দেশগুলো আলোচনার টেবিলে জায়গা পাবে না। ওয়াশিংটন ইউরোপীয় রাজধানীগুলোর কাছে একটি প্রশ্নমালা পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, তারা কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য কী ধরনের অবদান রাখতে পারে। সুত্র: রয়টার্স
তাওফিক/