যারা জন্মগতভাবে নারী হয়ে জন্মেছেন, তাদেরই কেবল ‘নারী’ বলা যাবে। রূপান্তরিত নারীদের ‘নারী’ বলা যাবে না। বুধবার( ১৬ এপ্রিল) একটি মামলায় এমনটাই রায় দেয় ব্রিটেনের সু্প্রিম কোর্ট।
যার পর থেকে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের হাজার হাজার রূপান্তরিত নাগরিক এবং তাদের অধিকারের সমর্থনকারী মানুষ প্রতিবাদে পথে নামেন। তাদের অভিযোগ, এই রায়ের মাধ্যমে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শনিবার ( ১৯ এপ্রিল) গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
একই দিন বার্তাসংস্থা বিবিসি জানায়, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের হাজার হাজার রূপান্তরিত এবং তাদের অধিকার সমর্থনকারী মানুষ প্রতিবাদে পথে নামেন। গত শনিবার লন্ডনের জমায়েতকে তারা ‘জরুরিকালীন বিক্ষোভ প্রদর্শন’ বলে উল্লেখ করেন।
অনেকের হাতে তৃতীয় লিঙ্গ অধিকার সুরক্ষার দাবি-সম্বলিত প্ল্যাকার্ড এবং রংধনু রঙের পতাকা দেখা যায়। এসময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পার্লামেন্ট স্কোয়ার।
এদিকে বুধবারের রায়ে রূপান্তরিদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত জানায়, রূপান্তরিত এবং রূপান্তরকামীদের অধিকার সুরক্ষিতই থাকবে। বরং এই রায়ের পর বৈষম্যের হাত থেকে তারা রক্ষা পাবেন।
ব্রিটেনের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অর্থ হল, এ বার থেকে নারীদের শৌচাগার, হাসপাতালের ওয়ার্ড কিংবা খেলার দল থেকে রূপান্তরিত নারীদের আলাদা করা হবে।
ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেন। সরকারের বক্তব্য, েই রায়ের ফলে পরিষেবাদানকারীদের কাজে স্বচ্ছতা আসবে, নারীরা আত্মবিশ্বাস পাবেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় কোটি। এর মধ্যে ১ কোটি ১৬ লক্ষ মানুষ রূপান্তরিত বা রূপান্তরকামী। এখন পর্যন্ত সাড়ে আট হাজারের বেশি লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রশংসাপত্র দিয়েছে সরকার।
ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কারও লিঙ্গ কী, তা ব্যাখ্যা করার জন্য শংসাপত্র ব্যবহার করা হলে পুরুষ এবং মহিলার সংজ্ঞার সঙ্গে তার বিরোধ ঘটতে পারে। ২০১০ সালের সমতা আইনে যে বৈষম্যবিরোধী বিধানগুলি দেওয়া হয়েছে, তা কেবল জৈবিক লিঙ্গের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সুত্র: বিবিসি এবং গার্ডিয়ান
দিনা