নতুন প্রশাসনিক রাজধানী নির্মাণের ব্যয়বহুল একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মিশর। রাজধানী কায়রো থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার (২৮ মাইল) পূর্বে মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মিশরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানী্র নির্মাণকাজ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। ৭০০ বর্গকিলোমিটার (২৭০ বর্গমাইল) আয়তনের এই নতুন শহরটিতে ৬০ লাখেরও বেশি লোকের বসবাসের ব্যবস্থা থাকবে।
এই শহরের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে চীন। শুধু প্রাথমিক ঠিকাদারীই নয়, একটি চুক্তির মাধ্যমে এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণও করবে চীন। এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত নির্মাণ জায়ান্ট, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএসসিইসি)।
১ জুন মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবোলি, মিশরের গৃহায়ন মন্ত্রী শেরিফ এল-শেরবিনি এবং চীনের গৃহায়ন ও উন্নয়ন উপ-মন্ত্রী ডং জিয়াংগুও এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
মূলত কায়রোর যানজট ও দূষণ নিরসনের জন্য এটি নির্মিত হচ্ছে। যার মধ্যে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ, সংসদ, সরকারি ভবন এবং বিদেশী দূতাবা্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়াও এই শহরে, আফ্রিকার সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবন, ৩৮৫ দশমিক ৮ মিটার (১,২৬৬-ফুট) আইকনিক টাওয়ার, ১০টি অফিস টাওয়ার, পাঁচটি আবাসিক টাওয়ার এবং চারটি হোটেল রয়েছে। শহরটির নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৯.৮ বিলিয়ন ইউয়ান)।
সিএসসিইসি'র এক বিবৃতিতে জানায়, চুক্তির অধীনে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে সিবিডি'র সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যা বাসিন্দা, পর্যটক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত নগর পরিষেবা প্রদান করবে।
২০২৩ সাল থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মচারী ইতোমধ্যে নতুন রাজধানীতে স্থানান্তরিত হয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির তৃতীয় মেয়াদে অভিষেকের পর থেকে মিশরের সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
ব্যাংক সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। চীনা কোম্পানিগুলোও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের অধীনে বন্দর, মহাসড়ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো মেগাপ্রকল্প নির্মাণে ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন করছে।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট পলিসি সেন্টারের ঋণ ডাটাবেস অনুসারে, ২০২৩ সালের মধ্যে, চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং অন্যান্য চীনা ঋণদাতাদের একটি কনসোর্টিয়াম সিবিডি নির্মাণের জন্য দুই দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করেছিল।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের এক সিনিয়র ফেলো জন ক্যালাব্রেস জানান, সিবিডি নির্মাণে চীনা সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই চীন ব্যবহারিক এবং কৌশলগতভাবে এখানে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে অগ্রাধিকার এবং স্মার্ট সিটি হিসেবে অ্যাক্সেস নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে ।
চীন-মিশর সম্পৃক্ততা এমন এক সময় হচ্ছে যখন বেইজিং মিশরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, বিশেষ করে সুয়েজ খালে। যা ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ। জেনারেল অথরিটি ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফ্রি জোনস অনুসারে, উৎপাদন থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে দুই হাজার ৮০০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি মিশরে কাজ করছে, যার বিনিয়োগ ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
সুলতানা দিনা/