যুদ্ধের সময় ইরান ইসরায়েলে যেভাবে ভয়াবহ হামলা করেছে তাতে অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। কারণ ইরানের সক্ষমতা এতটাই বেড়েছে যে বিস্মিত হতেই হয়। ক্রমাগত কৌশল পরিবর্তন করে ইসরায়েলে প্রতিরক্ষার ফাঁক খুঁজে বের করেছিল তেহরান। আর সে কারণেই ওই সময় এতটা কার্যকরীভাবে আঘাত হানতে পেরেছিল ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার (জিনসা) দেওয়া তথ্যানুসারে, ১২ দিনের সংঘাতের প্রথমার্ধে ইরানের মাত্র ৮ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা পার করতে পেরেছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে ইরানের ১৬ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ইসরায়েলের বাধা অতিক্রম করতে পেরেছিল।
তেল আবিব ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ডেটা অ্যানালিটিকস সেন্টারের প্রধান মোরা ডেইচ জানান, ইরানের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশসীমায় পৌঁছাতে পারেনি। আবার অনেক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়েছিল। সফলভাবে ইসরায়েলে আঘাত হানার যে হার, সেটিতে ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে হিসাবে নেওয়া হয়নি।
ইরান সবচেয়ে সফলভাবে ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ চালায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ২২ জুন। তাদের ছোড়া ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি ইসরায়েলে আঘাত হানে সেদিন। জিনশার তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে বিষয়টি।
ইসরায়েলের আয়রন ডোম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ
প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের সময়ও এটি সর্বাত্মকভাবে কাজ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যানুসারে, ইরানের ছোড়া ৮৬ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তারা।
কিন্তু যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা একটি পর্যায়ে গিয়ে কিছু না কিছু ভুল করবে। এমনকি ইসরায়েলের হাতে যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেটিও এ ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। অন্তত তাই বলছেন পেন্টাগন থিংক ট্যাংক র্যান্ডের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিষয়ক বিজ্ঞানী রাফায়েল কোহেন।
ইরান মূলত হামলা চালানোর সময় দেখছিল তাদের কোন ক্ষেপণাস্ত্র কখন কীভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে এবং সে অনুসারে তারা কৌশলে পরিবর্তন নিয়ে হাজির হচ্ছিল।
আরও একটি বিষয় ভূমিকা রেখেছিল। আর তা হলো খোদ ইসরায়েলের হামলা। ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। এতে করে ইরান তাদের পুরোনো স্বল্প-পরিসীমার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করতে পারেনি। সেগুলোর ভুল করার আশঙ্কা বেশি ছিল। ইরানকে বাধ্য হয়ে যুদ্ধে অনেক আগেই নিজেদের আরও উন্নত ও দীর্ঘ পরিসীমার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে। এতেও তাদের সফলভাবে ইসরায়েলে আঘাত হানার হার বেড়েছে।
এ ছাড়া ইরান রাতে বড় মাপের হামলা চালিয়েছে, আর দিনের বেলায় ছোট ছোট আক্রমণ করেছে। এ সময় তারা ইসরায়েলের দূরের শহরগুলোতে হামলা চালিয়েছে। হামলার মাঝেও বিরতি রেখেছে। এই কৌশলগুলো তাদের সফলভাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সহায়তা করেছে। এক কথায় তারা ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাকে পৃথক করে ফেলেছিল।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল