ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারে ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, মেক্সিকোর কুখ্যাত কার্টেলগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল-মিশ্রিত কোকেন সরবরাহ করছেন মাদুরো। আল-জাজিরার খবর।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এই পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ এবং ‘কার্টেল অব দ্য সানস’-এর পাশাপাশি মেক্সিকোর কুখ্যাত ‘সিনালোয়া কার্টেল’-এর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ করেন।
বন্ডি বলেন, ‘তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাদক পাচারকারী এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই আমরা তার ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার জন্য পুরস্কারের অর্থ ৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদুরো কোনোভাবেই আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন না এবং তার জঘন্য অপরাধের জন্য তাকে জবাবদিহি করতেই হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা নিশ্চিত হবে।’
এরপর তিনি জনসাধারণের জন্য একটি হটলাইন নম্বর দেন, যেখানে তারা তথ্য জানাতে পারবেন।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত মাদুরোর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে, যার মধ্যে দুটি ব্যক্তিগত জেট ও ৯টি গাড়ি রয়েছে। এছাড়া, কয়েক টন কোকেন জব্দ করা হয়েছে যেগুলোর উৎস সরাসরি প্রেসিডেন্ট মাদুরো।
এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডির এই ঘোষণাকে হাস্যকর আখ্যা দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল।
টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, এটি ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে হাস্যকর ধোঁকাবাজি’। জেফরি এপস্টেইন বিতর্ক থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই চতুর পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এটি ট্রাম্পের একটি নোংরা রাজনৈতিক কৌশল।
ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেব দায়িত্ব নিলে ২০২০ সালে একটি মার্কিন ফেডারেল আদালতে মাদুরো এবং তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সে সময় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, যা পরে ২৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়।
গত জুনে ভেনেজুয়েলার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক হুগো কারভাহাল যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। কারভাহাল ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সরকারে কাজ করেছেন।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কারভাহাল এবং ভেনেজুয়েলার অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা একটি মাদক কার্টেল পরিচালনা করতেন, যার লক্ষ্য ছিল কোকেন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ভাসিয়ে দেওয়া।
মার্কিন পুরস্কারের ঘোষণা সত্ত্বেও, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরো পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকান কয়েকটি সরকার অবৈধ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায়।
সুলতানা দিনা/