ভারতের পণ্যের উপর বাড়তি শুল্কারোপ নিয়ে দুই দেশের শীতল সম্পর্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন মোদি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন মোদি।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০ তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে বক্তিৃতা দেবেন ট্রাম্প, আর নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য দেবেন ২৬ সেপ্টেম্বর। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও মোদির বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ধারিত রপ্তানি শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহনের দেড় মাস পর মার্চ মাসে ভারতের ওপর নির্ধারিত শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত করেন ট্রাম্প, যা গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া সেসময় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেঁধে দেওয়ার পর রাশিয়া থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত। এ ব্যাপারটি নিয়ে সম্প্রতি আপত্তি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়া থেকে তেল কেনার মাধ্যমে রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য অর্থ যোগাচ্ছে ভারত।
এর পর গত ৬ আগস্ট ভারতের ওপর অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ফলে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শুল্কের পরিমাণ বেড়ে পৌঁছায় ৫০ শতাংশে।
এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ভারত বর্তমানে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রুশ ফেডারেশন থেকে তেল আমদানি করছে... আমার বিচারে মনে হচ্ছে, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক (কোনও পণ্যের ওপর সরকার নির্ধারিত খুচরা বিক্রয় মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারের শুল্ক) আরোপ করা প্রয়োজন।’
ট্রাম্পের এই শুল্ক চাপানোর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণকে ন্যায্য মূল্যে তেল সরবরাহ করাকে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই স্বার্থ রক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ ভারত গ্রহণ করবে।
সুলতানা দিনা/