পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ ৪১ জন মন্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন করে ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নবান্ন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে থাকছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, ত্রাণ ও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর।
এছাড়া, যেসব দপ্তর অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি, সেগুলোর দায়িত্বও মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই থাকবে।
গত ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ব্রিগেড ময়দানে শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নিশীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। পরে ১ জুন আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন।
পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় দপ্তর বণ্টনের পর নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও জলসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ পেয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তর।
অগ্নিমিত্রা পালের হাতে দেওয়া হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।
অশোক কীর্তনিয়া পেয়েছেন খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দপ্তরের দায়িত্ব।
ক্ষুদিরাম টুডুর হাতে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর।
নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে নিউ টাউনের রামমন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে শারদ্বতের নাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এবার সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হলো।
পর্যটন এবং পরিষদীয় বিষয়ক দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিলিগুড়ির শঙ্কর ঘোষকে।
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের পাশাপাশি অচিরাচরিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, সরকারি উদ্যোগ এবং শিল্প পুনর্গঠন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস রায়।
অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব।
স্কুলশিক্ষা, আবাসন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক বর্মণকে।
বীরভূমের প্রবীণ বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডল হয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। অর্জুন সিংহ পেয়েছেন শ্রম ও পরিবহণ দপ্তরের দায়িত্ব। মনোজ ওরাওঁকে বন ও পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অজয় পোদ্দার। গৌরীশঙ্কর ঘোষের হাতে দেওয়া হয়েছে অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন, জনশিক্ষা প্রসার এবং গ্রন্থাগার দপ্তর।
তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উদ্যানপালন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন কল্যাণ চক্রবর্তী। অরূপকুমার দাস হয়েছেন সেচ ও জলপথ মন্ত্রী।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব
গত ১ জুন শপথ নেওয়া তিন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর মধ্যেও দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।
মালতি রাভা রায়কে নারী ও শিশুকল্যাণ, সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্বনিযুক্তি এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজেশ মাহাতো হয়েছেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও মৎস্য দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী।
ইন্দ্রনীল খাঁ পেয়েছেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর
নবান্ন ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টনের তালিকাও প্রকাশ করেছে।
জুয়েল মুর্মুকে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। হরেকৃষ্ণ বেরা হয়েছেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আনন্দময় বর্মণ।
কলিতা মাজিকে আবাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী এবং সুমনা সরকারকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অধীন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশাল লামা।
এছাড়া অশোক দিন্ডাকে কৃষি বিপণন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার
অমিয়/