এশিয়ার উঠতি পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া দিন দিন আরও ভয়ংকর হচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিধর দেশটিতে প্রতিবছর ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ৫০টি ওয়্যারহেড তৈরি করেছে। এছাড়াও দেশটির কাছে ৪০টি পর্যন্ত পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য বিচ্ছিন্ন উপাদান রয়েছে। এএফপির খবর।
আগের সরকারের কঠোর নীতি এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনীতির অভাবের কথা উল্লেখ করে লি বলেন, ‘আমরা উত্তর কোরিয়াকে নিরুৎসাহিত করার এবং নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু ফলাফল হলো উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশ অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সত্য হলো, গত তিন থেকে চার বছরে উত্তর কোরিয়ার কাছে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার জানান, তিনি এ বছরেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আরও আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সোমবার (২৫ আগস্ট) প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউজ সফর করেন। ওভাল অফিসে তাকে স্বাগত জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছি। আমি এ বছরই তার সঙ্গে বৈঠক করতে চাই।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তবে, তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ায় প্রমাণ হয়েছে, ওয়াশিংটন কোরীয় উপদ্বীপ দখল এবং অঞ্চলটির দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে চায়।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় তার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি কূটনীতি শুরু হয়। তবে তখন উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার মতো কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
সুলতানা দিনা/