প্রবল বর্ষণে ইন্দোনেশিয়ার দুটি প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশ ও পর্যটন দ্বীপ বালির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। পাহাড়ি এলাকায় কাদা, পাথর ও গাছের স্রোত গ্রামগুলোর ওপর নেমে আসে। অন্তত ১১২টি এলাকায় প্লাবন ঘটে এবং বহু স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকারীরা মাউপোঙ্গো গ্রামে কাদার নিচে চাপা পড়া এক মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে। একই জেলার লোকারাবা গ্রামে আরও একজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে মাউপোঙ্গোতে একটি বাড়ি ভেসে গেলে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন এবং চারজন নিখোঁজ হন।
বালিতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রাদেশিক রাজধানী দেনপাসারের বাদুং বাজারের কাছে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে কুম্বাসারি বাজার এলাকায় একটি ভবন ভেসে গেলে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। এখনো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পানিতে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি, ছাদে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের সেনা ও উদ্ধারকর্মীরা নৌকায় করে নামিয়ে আনছেন।
প্রবল বন্যায় হাজারো ঘরবাড়ি ও ভবন প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও হাসপাতালগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে। বহু সড়ক, সেতু ও দোকানপাট ভেসে গেছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বালিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সহায়তায় কনস্যুলেট প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বালিতে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণকে দায়ী করছেন অনেকে।
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মৌসুমি বর্ষণে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধস প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/