ইমরান খানের এক্স অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে স্ববিরোধী দাবি করে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
সম্প্রতি ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক মেহেদি হাসানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে স্ববিরোধী দাবি করার পর নিজেই কিছুটা হতবাক হয়ে যান খাজা আসিফ।
সাংবাদিক মেহেদী হাসান সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফকে ইমরানের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন করছিলেন।
এসময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আসিফ প্রথমে অভিযোগ করেন যে ইমরান খান পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারের ভেতর থেকে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন।
এরপর হাসান যখন তাকে মনে করিয়ে দেন যে, তিনি আগে দাবি করেছিলেন ইমরানের অ্যাকাউন্টটি ভারত থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তখন খাজা আসিফ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হিমশিম খেয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যান।
এর আগে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে নিজের এক্স হ্যান্ডলে লাগাতার ‘মানসিক হেনস্থা’র অভিযোগ তুলে আসছেন পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
এবার ইমরান খানের এক্স অ্যাকাউন্ট নিয়ে এই প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়লেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
সম্প্রতি, আদালতের শুনানিতে ভার্চুয়ালি ইমরান খান কীভাবে অংশ নিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। সঞ্চালকের বক্তব্য ছিল, ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিচারক ইমরানের কথা শুনতেই পাননি। তারপরও শুনানি চলেছে। ফলে সেই শুনানিকে আদৌ ন্যায্য বলা যায় কি না?
তখন খাজা আসিফ বলেন, ‘তিনি (ইমরান) জেলে বসেই এক্স হ্যান্ডল ব্যবহার করেন।’
এরপরই সঞ্চালক পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘আগের দিনই আপনি বললেন যে, ইমরান খানের এক্স হ্যান্ডল ভারত থেকে পরিচালিত হয়। আপনাকে বলতে শুনেছি আমি। ইমরান জেলে না ভারতে?’- এর জবাব দিতে গিয়েই দৃশ্যত বিড়ম্বনায় পড়েন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
তিনি বলেন, ‘হয় উনি জেলে বসে এক্স হ্যান্ডল ব্যবহার করছেন, নয়তো অন্য কেউ করছেন।’
সঞ্চালক খাজা আসিফের কাছে এই দাবির সপক্ষে প্রমাণও চান। জবাবে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে প্রকাশ্যে তো প্রমাণ দেওয়া যায় না।’
তিনি আরও বলেন যে তিনি- ‘স্পষ্টতই, গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে দাবি করছেন এবং ‘কেউ এটি প্রকাশ্যে বলছেন না।’
দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত দু’বছর ধরে পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি।
সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েক বার এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে দাবি করেছেন যে, জেলে তার এবং তার স্ত্রীর কিছু হয়ে গেলে দায়ী থাকবেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
ইমরান নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্টে লিখেছিলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে দুর্ব্যবহারের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে। আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। এমনকি, তার ঘরের টেলিভিশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’
তার দাবি, এসব কিছুর নেপথ্যে রয়েছেন আসিম মুনির। তার নির্দেশেই জেলের মধ্যে অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন তারা।
ইমরানের বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন, আইএসআই প্রধানের পদ থেকে আমি মুনিরকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। এর পরেই পিটিআই-এর জুলফি বুখারির মাধ্যমে বুশরা বিবির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলে, আমি তা প্রত্যাখান করি। বুশরা বিবির মাধ্যমে আমাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মুনির।” তার দাবি, এর পর থেকেই মুনিরের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে বুশরা বিবি এবং তার উপরে।
সুলতানা দিনা/