সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যা আগামী মাসে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরের সময় সই হতে পারে। সংবাদটি জানেন এমন একাধিক সূত্রের বরাতে আজ শুক্রবার ফাইন্যানশিয়াল টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, “ক্রাউন প্রিন্সের সফরের সময় কিছু একটা সই করার বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।”
ফাইন্যানশিয়াল টাইমস জানায়, আলোচ্য চুক্তিটি সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, তার অনুরূপ। ওই চুক্তিতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কাতারের ওপর যে কোনো সশস্ত্র হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কাতারের সঙ্গে এই চুক্তি হয় গত মাসে, ইসরায়েল দোহায় হামাস নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে বিমান হামলা চালানোর পর।
সেই হামলায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের কয়েকজন নিম্নপদস্থ সদস্য ও এক কাতারি নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। তবে মূল লক্ষ্য হামাসের শীর্ষ নেতারা এ হামলা থেকে বেঁচে যান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলের “একটি শক্তিশালী ভিত্তি,” তবে সম্ভাব্য নতুন চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস ও সৌদি সরকার কারও পক্ষ থেকেই কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব কাতার-ধাঁচের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রিয়াদ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের প্রচেষ্টার অংশ ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণ এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের কারণে এ উদ্যোগ স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রিন্স সালমান ঘোষণা করেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা না পেলে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।
এ বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারমাণবিক সহযোগিতা আলোচনার শর্ত হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দাবি প্রত্যাহার করেন। এই শর্তই ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আলোচনায় বড় বাধা।
গত মাসে সৌদি আরব পারমাণু অস্ত্রধারী পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, যেখানে বলা হয়েছে—যে কোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র: রয়টার্স, দি টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/