ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লালকেল্লার কাছে ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন করে যে, মূল সন্দেহভাজনদের সঙ্গে তুরস্কের কোনো যোগাযোগ আছে।
এসব প্রতিবেদনে এরকম তথ্য দেওয়া হয় যে, দিল্লির বিস্ফোরণের ঠিক আগে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড ইস্তাম্বুল ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সংস্থার প্রধান ফারহান নবি সিদ্দিকিকে গ্রেপ্তার করে। বিদেশ থেকে হাওয়ালার মাধ্যমে ১১ কোটি ভারতীয় টাকা এসেছিল তাদের নামে।
তারই এক সঙ্গী তুরস্কের নাগরিক নাসি তোরবা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও সংবাদ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল। তুরস্ক ও জার্মানি থেকে আসা অর্থ দিয়ে উত্তরপ্রদেশের আমরোহা এবং পাঞ্জাবে মাদ্রাসা ও মসজিদ বানানোর জন্য জমি কেনা হচ্ছিল বলেও সন্ত্রাস দমন বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে লেখা হয়।
তবে বৃহস্পতিবার তুরস্কের সরকার এক বিবৃতি দিয়ে সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।
তুরস্কের ডাইরেক্টরেট অব কমিউনিকেশনস জানায়, ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে তুরস্কের যোগাযোগ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে কূটনৈতিক এবং অর্থ দিয়ে সহায়তা করা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে যে প্রতিবেদন করা হচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশে, তা আসলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নষ্ট করার জন্য এক দুরভিসন্ধিমূলক মিথ্যা প্রচারণার অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘সব ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, তা সে যেখানেই ঘটুক, যেই ঘটিয়ে থাক, তার কঠোর বিরোধিতা করে তুরস্ক। বৈশ্বিক মহলের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে সামনের সারিতে অটল থাকবে তুরস্ক।’’
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকে কমান্ডো বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড ও হরিয়ানা পুলিশের সদস্যরা ফরিদাবাদে নতুন করে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। সেখানে একটি লাল রঙের গাড়ি খুঁজে পাওয়া গেছে; যেটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন ডা. উমর নবীর।
ভারতশাসিত কাশ্মিরের আদি বাসিন্দা চিকিৎসক নবীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তার বাবা এবং মায়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণস্থল থেকে যেসব দেহ ও দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে নবীর বাবা মায়ের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানান।
দিল্লি পুলিশের সূত্র বলেছে, মূল সন্দেহভাজন ডা. উমর নবি বিস্ফোরণের আগে কোথায় গিয়েছিলেন, কী করেছিলেন, তা অন্তত ৫০টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ছবি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআই এরকমই একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে বলেছে, বিস্ফোরণের আগে ডা. উমর নবি দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে একটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছেন।
এদিকে, লালকেল্লারবিস্ফোরণের ঘটনাকে, সন্ত্রাসী হামলা বলে ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, বিস্ফোরণে বিলাল নামে আহত একজন ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
সুলতানা দিনা/