মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সব “থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ” থেকে অভিবাসন “স্থায়ীভাবে স্থগিত” করবেন।
ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, এতে “মার্কিন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার” করতে সাহায্য করবে—আগের নীতিগুলো অনেক আমেরিকানের “অর্জন ও জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত” করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে তিনি তার পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাননি বা কোন কোন দেশ এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, সেটিও বলেননি।
তার মন্তব্যটি আসে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক আফগান নাগরিকের হাতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার একদিন পর—যাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এই ঘটনা বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি তুলে ধরেছে।
এরপর ট্রাম্পের ঘোষণাগুলো তার অভিবাসন ইস্যুতে অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল গার্ডের ২ সদস্য গুলিবিদ্ধ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আফগান নাগরিক
গুলিবর্ষণের পর তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে এমন সব বিদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে “যাদের এখানে থাকার অধিকার নেই”। একই দিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানদের সব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে, জানিয়ে যে “নিরাপত্তা ও যাচাই–বাছাই পদ্ধতি” পুনর্বিবেচনা না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (USCIS) জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ১৯টি দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় যাচাই করবে। এ ঘোষণা বুধবারের হামলার প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ করেনি।
সংস্থাটি হোয়াইট হাউসের জুন মাসের এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম ছিল।
পুনঃযাচাই কীভাবে হবে—এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত কঠোর শব্দচয়নের পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি “নাগরিক নন এমন কাউকে” দেওয়া সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করে দেবেন।
পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, শরণার্থীরা আমেরিকায় “সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে” এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে “যে কেউ যারা নেট সম্পদ নয়”—অর্থাৎ দেশকে ইতিবাচকভাবে সমর্থন করছে না—তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।
থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তা হিসেবে পরিচিত ওই পোস্টটি ছিল ব্যাপক অভিবাসীবিরোধী ভাষায় ভরা।
তিনি বলেন, “সোমালিয়া থেকে আসা লাখো শরণার্থী একসময়কার মহান মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যটিকে পুরোপুরি দখল করে নিচ্ছে”—এবং বিশেষভাবে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, “আমি সব থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে পারে।”
“থার্ড ওয়ার্ল্ড” শব্দটি অতীতে দরিদ্র, উন্নয়নশীল দেশ বোঝাতে ব্যবহার করা হতো।
হোয়াইট হাউস বা USCIS—কেউই এখনও ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানায়নি, আর ট্রাম্পও নিজের পোস্টে ওই পরিকল্পনার সঙ্গে বুধবারের হামলার সরাসরি সম্পর্ক দেখাননি।
এর আগেই, চলতি বছর শুরুর দিকে ট্রাম্প আফগানিস্তানসহ প্রধানত আফ্রিকা ও এশিয়ার ১১টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। তার প্রথম মেয়াদেও বেশ কিছু মুসলিম-প্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।
বুধবারের গুলিবর্ষণের ঘটনায় ট্রাম্প অভিবাসীদের প্রতি যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা ছিল “অভিবাসীদের বলির পাঁঠা” বানানোর চেষ্টা—এ মন্তব্য করেন আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ম্যাককিনি।
ডিসিতে গুলিবর্ষণের সন্দেহভাজন আফগান
পরপর এই ঘোষণাগুলো আসে যখন কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটন ডিসির গুলিবর্ষণের সন্দেহভাজন রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করেছিলেন এমন আফগানদের বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা দেওয়ার কর্মসূচির আওতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ–র বর্তমান পরিচালক জানিয়েছেন, লাখানওয়াল একসময় সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
২০২৪ সালে তিনি আশ্রয় আবেদন করেন এবং এ বছর শুরুর দিকে তা অনুমোদিত হয়—মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন।
হামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প এই হামলাকে “সন্ত্রাসী কার্যক্রম” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরদিন তিনি জানান, গুলিতে আহত ন্যাশনাল গার্ডের একজন সদস্য মারা গেছেন। সারাহ বেকস্ট্রম নামের ২০ বছর বয়সী এই তরুণী ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা। অপরাধ দমনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের অংশ হিসেবে তিনি ডিসিতে দায়িত্ব পালনে এসেছিলেন।
থ্যাংকসগিভিং ছুটির সময় স্বেচ্ছায় ডিসিতে কাজ করতে এসেছিলেন তিনি—জানান অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি।
অন্য সদস্য, ২৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু উলফ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি “জীবনের জন্য লড়াই করছেন”। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/