২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক শাসন (মার্শাল ল) জারির চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার আবেদন পিছিয়ে আগামী সপ্তাহে নির্ধারণ করেছে আদালত। আজ শুক্রবার এক ম্যারাথন শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়। রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ইউনের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হলে সাজা মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও ১৯৯৭ সালের পর থেকে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, তবে এই দণ্ড এখনো বিলুপ্তও করা হয়নি।
শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ইউন এবং অন্য সাত আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার জন্য বিশেষ প্রসিকিউটরের আবেদন করার কথা ছিল। কিন্তু টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যুক্তিতর্ক চলার পর আদালত ১৩ জানুয়ারি পুনরায় কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলো হলো:
দীর্ঘমেয়াদী চক্রান্ত: ইউন এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকেই সংসদ স্থগিত করা এবং আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন।
রাজনৈতিক দমন: ইউন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের (বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সহ) ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের আটক করার চেষ্টা করেছিলেন।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা: সামরিক শাসন জারির অজুহাত তৈরির জন্য তারা একটি গোপন ড্রোন অপারেশনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ইউনের আত্মপক্ষ সমর্থন
৬৫ বছর বয়সী সাবেক তুখোড় প্রসিকিউটর ইউন সুক ইয়ল তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামরিক শাসন জারির ক্ষমতা তার ছিল এবং বিরোধী দলগুলোর সরকার পরিচালনায় বাধা সৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
শুক্রবার আদালতে কালো স্যুট ও সাদা শার্টে উপস্থিত ইউনকে বিচার শুরুর সময় অপেক্ষা অনেক বেশি রোগা দেখাচ্ছিল। তার আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় আদালতের রায় ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে।
প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউন যখন সামরিক শাসন জারি করেন, তখন পুরো বিশ্ব এবং দক্ষিণ কোরিয়া স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে সংসদে ঢুকে এর বিরুদ্ধে ভোট দিলে সামরিক শাসন বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।
এরপর সাংবিধানিক আদালত তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে। গত বছরের জুনে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে লি জে মিউং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। অভিশংসন ছাড়াও ইউনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ আরও বেশ কিছু অপরাধের মামলা চলছে। সূত্র: রয়টার্স