ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নিজের একটি ছবি টাঙিয়েছেন, যা মার্কিন মিত্রদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত আগস্টে আলাস্কা সম্মেলনের সময় ট্রাম্প-পুতিনের এই ছবিটি তোলা হয়েছিল এবং বর্তমানে এটি ট্রাম্পের নাতনির সঙ্গে তার একটি ছবির ঠিক উপরে স্থান পেয়েছে।
পিবিএস নিউজের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি এলিজাবেথ ল্যান্ডার্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই দৃশ্যটি শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, পশ্চিম উইং ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি প্রবেশপথে বা ভেস্টিবিউলে এই বাঁধানো ছবিটি রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার অন্যতম প্রধান আলোচক কিরিল দিমিত্রিভ এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। দিমিত্রিভ এর আগে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন।
তিনি ছবিটির বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে বলেন যে, একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। তবে ১৬০০ পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে এই নতুন সংযোজন দেখে সবাই সমানভাবে মুগ্ধ হননি।
ভার্জিনিয়ার মার্কিন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই ছবি বিন্যাস নিয়ে মন্তব্য করে বলেন যে, এটি পুতিনকে আমেরিকার জনগণ এবং এমনকি ট্রাম্পের নিজের পরিবারের চেয়েও উপরে স্থান দেওয়ার শামিল। তার মতে এটি যেন রূপকের চেয়েও বেশি সরাসরি হয়ে গেছে।
এস্তোনিয়ান রাজনীতিবিদ মার্কো মিহেলসন পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এই আপাত সুসম্পর্ক প্রদর্শনের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধীর ছবি হোয়াইট হাউসের দেয়ালে টাঙানো উপযুক্ত মনে করেন, তবে একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তির জন্য দুর্ভাগ্যবশত আরও অপেক্ষা করতে হবে।
ট্রাম্প গত বছর পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছেন এবং গত মাসে পাম রুমটিও সংস্কার করা হয়েছে।
গত বছরের ১৫ আগস্ট অ্যাঙ্কোরেজে ট্রাম্প ও পুতিন বৈঠকে মিলিত হন। চার বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটিই ছিল মার্কিন ও রুশ নেতাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ। পূর্ব ইউক্রেনে যখন পুতিনের বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মস্কোতে এই বৈঠকটিকে বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দুই নেতাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দুবার করমর্দন করতে দেখা গেছে এবং পুতিনকে একজন ঘনিষ্ঠ মিত্রের মতো অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।
ক্রেমলিন চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জানিয়েছে যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ের নতুন সংস্করণে এই বৈঠকের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সূত্র: দি ইনডিপেনডেন্ট
মাহফুজ/