ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের মধ্যে তারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) আইআরজিসি এই দাবি জানায়।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি ইরানি বাহিনী এমন একটি স্থানেও হামলা চালিয়েছে যেখানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে গার্ডস বাহিনী বলেছে, জায়নবাদী শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং এই শাসনের বিমান বাহিনী কমান্ডারের সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয় যে, এই হামলায় 'খাইবার' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বর্তমান অবস্থা এখনও অস্পষ্ট।
যুদ্ধের আরও বিস্তার
শনিবার থেকে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করেছে। দুবাই, বাহরাইন, ইরাকসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যার ফলে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর সোমবার ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ভুলবসত কুয়েতের এয়ার ডিফেন্স তাদের তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরান এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
খামেনেই হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হামলা অব্যাহত রাখায় সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে গেছে এবং কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্স থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সাইপ্রাসে একটি ইরানি ড্রোন ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সুমন/