ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি এক্সের এক পোস্টে দাবি করেছেন, ‘আমি শুনেছি যে এপস্টিন গ্যাংয়ের অবশিষ্ট সদস্যরা আরেকটি টুইন টাওয়ার হামলা বা ৯/১১-এর মতো একটি ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্র করেছে, যাতে এর দায় ইরানের ওপর চাপানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান মৌলিকভাবেই এ ধরনের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার বিরোধী এবং আমেরিকার জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই।’
ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন মার্কিন সরকারের বিপুল পরিমাণ গোপন নথি প্রকাশিত হচ্ছে। এসব ফাইলে প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বের প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের সম্পর্কের নথিপত্র রয়েছে। ইরান সরকারের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত কোনো বিজয় নেই, তাই আরেকটি ৯/১১ ঘটাতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র সব দোষ ইরানের ওপর দিয়ে মার্কিনিদের যুদ্ধের পক্ষে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এপস্টিনকে একজন ‘অদ্ভুত লোক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু তাকেও বহুবার এপস্টিনের সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টিন বছরের পর বছর ধরে ডজন ডজন তরুণী ও কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করেছে। তেহরান বর্তমানে এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও সামাজিক উচ্চবিত্তদের এই সম্পর্কগুলোকে সামনে আনার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা ওয়াশিংটনে তাদের শত্রুদের ‘নৈতিকভাবে অধম’ হিসেবে চিত্রিত করতে চাইছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে পর পর দুটি বিমান হামলাকে ৯/১১ বলে। এতে ধ্বংস প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। এটি বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আনে। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার দায় চাপিয়েছে আল-কায়েদার ওপর।