যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘ এই আলোচনা শেষে ভ্যান্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দুঃসংবাদটি হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি দুঃসংবাদ। সুতরাং, কোনো চুক্তিতে না পৌঁছেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের অলঙ্ঘনীয় সীমাগুলো কী, কোন বিষয়গুলোতে আমরা তাদের ছাড় দিতে রাজি এবং কোন বিষয়গুলোতে রাজি নই, তা আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা বিষয়টি যতটুকু সম্ভব পরিষ্কার করে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
উভয় পক্ষ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হবে। আমার মনে হয়, আমরা যথেষ্ট নমনীয় ও সহযোগিতামূলক ছিলাম।’
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাদের বলেছিলেন, ‘আপনাদের এখানে সদিচ্ছা নিয়ে আসতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’ আমরা তা-ই করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।
ইরানীরা কী প্রত্যাখ্যান করেছে জানতে চাইলে ভ্যান্স বলেন, তিনি বিস্তারিত বলবেন না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই নিশ্চয়তা চাইছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
‘সহজ কথা হলো, আমাদের একটি ইতিবাচক অঙ্গীকার দেখতে হবে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র চাইবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও চাইবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম করবে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেটাই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।’
.@VP in Islamabad, Pakistan: "We’ve had a number of substantive discussions with the Iranians. That’s the good news. The bad news is that we have not reached an agreement — and I think that’s bad news for Iran much more than it's bad news for the United States of America." pic.twitter.com/RLIQ30btO5
— Rapid Response 47 (@RapidResponse47) April 12, 2026
আবার, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, বা আগে তাদের যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ছিল, সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সহজ প্রশ্নটি হলো, আমরা কি ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে একটি মৌলিক ইচ্ছাশক্তি দেখতে পাই- শুধু এখন বা দুই বছর পর নয়, তা দীর্ঘমেয়াদে? আমরা এখনও তা দেখিনি। আমরা আশা করি যে আমরা তা দেখতে পাব, যোগ করেন তিনি।
তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন।
তাদেরকে ‘অসাধারণ আয়োজক’ হিসেবে বর্ণনা করে ভ্যান্স বলেন. ‘আলোচনায় যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে, তার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। আমরা এখন ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করছি এবং ইরানিদের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি। এটাই সুসংবাদ।’ সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা
অমিয়/