ইয়াং শুয়াং-জি রচিত এবং লিন কিং অনূদিত উপন্যাস ‘তাইওয়ান ট্রাভেলগ’ ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জয় করেছে। এটিই মূল ম্যান্ডারিন-চীনা ভাষায় লেখা প্রথম বই যা বুকার পুরস্কার পেল। গত মঙ্গলবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইয়াং এবং কিংকে ৫০ হাজার পাউন্ড পুরস্কারজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই অর্থ তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।
উপন্যাসটির পটভূমি তাইওয়ান। ১৯৩৮ সালে জাপানের দখলে থাকা তাইওয়ানে চলে আসা ঔপন্যাসিকের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। তাইওয়ানে পৌঁছে এই ঔপন্যাসিক একজন দোভাষীর সান্নিধ্যে এলে তারা খাবারের সফরে বের হন। পরে তারা প্রেমে পড়েন। বুকার বিচারক প্যানেলের প্রধান ও ঔপন্যাসিক নাতাশা ব্রাউন বলেন, বইটিতে কাল্পনিক ফুটনোট ও ব্যাখ্যার পাশাপাশি আসল ফুটনোটও রয়েছে, যা এর মূল গল্পকে ঘিরে অন্য একটা কাল্পনিক জগৎ তৈরি করেছে। এতে যে প্রেমের গল্প স্থান পেয়েছে উত্তর-ঔপনিবেশিক উপন্যাস হিসেবে সেটি পড়া যায়।
ইংরেজি ভাষায় অনূদিত সেরা কথাসাহিত্যিক ও এর অনুবাদককে বুকার পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের ইতিহাসে ইয়াং এবং কিং যথাক্রমে প্রথম তাইওয়ানি এবং তাইওয়ানি-আমেরিকান হিসেবে এই পুরস্কার পেলেন। এর আগে মূল ম্যান্ডারিন-চীনা উপন্যাসটি তাইওয়ানের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জিতেছিল। কিং ইংরেজি অনুবাদের জন্য পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড। কথাসাহিত্যের পাশাপাশি ইয়াং প্রবন্ধ, জাপানি কমিকস এবং ভিডিও গেমের চিত্রনাট্যও লেখেন। কিং নিজেও একজন মৌলিক কথাসাহিত্যিক।
পুরস্কার গ্রহণের বক্তৃতায় ইয়াং তাইওয়ানের রাজনীতি সম্পর্কে বলেন, আমাদের লেখকরা এক শতাব্দী ধরে একই প্রশ্ন করে আসছেন; সেটা হলো আমরা কেমন ভবিষ্যৎ চাই। কিং তার বক্তৃতায় বলেন, আমার লক্ষ্য তাইওয়ানের সাহিত্যকে যত বেশি পারা যায় ইংরেজিতে নিয়ে আসা।
বুকার প্রাইজের ওয়েবসাইটে গত মার্চে এক সাক্ষাৎকারে ইয়াং বলেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানি প্রেমের উপন্যাসের জোয়ার দেখে তিনি লেখালেখি শুরু করেন।
‘তাইওয়ান ট্রাভেলগ’-এর অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াং ব্যাখ্যা করে বলেন, কোরিয়া এবং তাইওয়ান উভয়ই একসময় জাপানি সাম্রাজ্যের উপনিবেশ ছিল। তাইওয়ানের মানুষ ওই সময়কে কিছুটা অসন্তোষ এবং নস্টালজিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। আমি অতীতের তাইওয়ানিদের জটিল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিতে চেয়েছি।
এবারও বুকার পুরস্কারের জন্য ছয়টি বইয়ের একটা শর্টলিস্ট করা হয়। অন্য যে পাঁচটি বই এই শর্টলিস্টে ছিল সেগুলো হলো–ড্যানিয়েল কেলম্যানের ‘দ্য ডিরেক্টর’ (অনুবাদক রস বেঞ্জামিন), মারি এনডিয়ায়ের ‘দ্য উইচ’ (অনুবাদক জর্ডান স্টাম্প), রেনে কারাবাশের ‘শি হু রিমেইনস’ (অনুবাদক ইজিডোরা অ্যাঞ্জেল), আনা পাওলা মায়ারের ‘অন আর্থ অ্যাজ ইট ইজ বিনিথ’ (অনুবাদক পদ্মা বিশ্বনাথন) এবং শিদা বাজিয়ারের ‘দ্য নাইটস আর কোয়ায়েট ইন তেহরান’ (অনুবাদক রুথ মার্টিন)।
ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজের আগের প্রখ্যাত বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন হান কাং। তিনি তার ‘দ্য ভেজিটেরিয়ান’ (অনুবাদক ডেবোরা স্মিথ) এবং ওলগা তোকারচুক তার ‘ফ্লাইটস’ (অনুবাদক জেনিফার ক্রফট) বইটির জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন।