চাঁদে অভিযান পরিচালনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০২৯ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পৌঁছাতে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এই মিশন নাসার ‘কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস’ (সিএলপিএস) প্রোগ্রামের আওতায় বাস্তবায়িত হবে।
ফায়ারফ্লাই গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, ১৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের এই চুক্তির আওতায় তারা নাসার পাঁচটি পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম চাঁদে পৌঁছে দেবে। ‘ব্লু গোস্ট মিশন ৪’ নামের এই অভিযানে ফায়ারফ্লাই তাদের ‘এলিত্রা ডার্ক’ অরবিটাল যান এবং ‘ব্লু গোস্ট’ লুনার ল্যান্ডার ব্যবহার করবে।
এই মিশনের মাধ্যমে দুটি রোভার ও তিনটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানো হবে। এই যন্ত্রগুলো চাঁদের সম্পদ, বিকিরণের মাত্রা ও তাপীয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের চন্দ্রাভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নীতিতে এটি একটি বড় পরিবর্তন। নাসা এখন চাঁদে অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি পাঠাতে বেসরকারি সংস্থার উপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে খরচ কমানো এবং সময় বাঁচানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রযুক্তিকে মহাকাশ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি।
অভিযানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফায়ারফ্লাইয়ের এলিত্রা ডার্ক যানটি প্রথমে ব্লু গোস্ট ল্যান্ডারটিকে চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করবে। এরপর যানটি নিজে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কক্ষপথে অবস্থান করবে। অন্যদিকে ল্যান্ডারটি চাঁদের পৃষ্ঠে নেমে ১২ দিনের বেশি সময় সক্রিয় থেকে কাজ করবে। সেখানে থাকা পেলোডগুলোকে এটি শক্তি, ডেটা ও যোগাযোগ সুবিধা দেবে । এই মিশনে যুক্ত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘মুনরেঞ্জার’ নামের একটি রোভার এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির তৈরি একটি রোভার।
এর আগেও ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করেছে। চলতি বছরের মার্চে তাদের প্রথম ‘ব্লু গোস্ট’ মিশন সফলভাবে চাঁদের পৃষ্ঠ স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে তারা চাঁদে সফলভাবে অবতরণকারী দ্বিতীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও, তারাই প্রথম সম্পূর্ণ সফল সফট ল্যান্ডিংয়ের দাবি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে পুঁজি করে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত (আইপিও) হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ২০২৯ সালের এই মিশন শুধু মহাকাশবিজ্ঞানে নয়, ভবিষ্যতের মানববসতি স্থাপন ও গবেষণা অভিযানের পথ প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স


