জাপানের একদল গবেষক রোবটের চলাচল আরও মসৃণ ও নিখুঁত করতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ব্যবহার করে একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। টোকিওর শিবাউরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফুজিতসুর গবেষকদের এই দলটি ‘কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট’ নামে পরিচিত এক বিশেষ কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়েছেন। ফলে রোবটের নড়াচড়ার ভুল ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে।
মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবটের হাত বা পা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সরাতে হলে এর প্রতিটি জয়েন্ট বা সন্ধিকে কতটা বাঁকাতে হবে, তা গণনা করা প্রচলিত কম্পিউটারের জন্য বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। নতুন পদ্ধতিতে গবেষকরা কিউবিট (কোয়ান্টাম বিট) ব্যবহার করেছেন, যা রোবটের প্রতিটি অংশের অবস্থান ও দিক নির্দেশ করে।
নতুন পদ্ধতিতে গবেষকরা রোবটের প্রতিটি অংশের অবস্থান বোঝাতে কিউবিট (কোয়ান্টাম বিট) ব্যবহার করেছেন। কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্টের মাধ্যমে কিউবিটগুলোকে এমনভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যেভাবে রোবটের একটি জয়েন্টের নড়াচড়া অন্য জয়েন্টকে প্রভাবিত করে।
ফুজিতসুর কোয়ান্টাম সিমুলেটর ও একটি ৬৪-কিউবিটের কোয়ান্টাম কম্পিউটারে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এই পদ্ধতি শুধু দ্রুত নয়, অনেক বেশি নির্ভুলও। এক পরীক্ষায় ১৭টি জয়েন্টসহ একটি পূর্ণাঙ্গ রোবটের নড়াচড়া গণনা করা হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগত, সেখানে কোয়ান্টাম পদ্ধতিতে অনেক কম সময়ে নির্ভুল গণনা করা সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যতের রোবট, বিশেষ করে হিউম্যানয়েডগুলোকে মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে চলতে, দ্রুত সাড়া দিতে এবং জটিল পরিবেশে কাজ করতে হলে এ ধরনের প্রযুক্তি অপরিহার্য হবে। গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি বর্তমান প্রজন্মের ‘এনআইএসকিউ’ কোয়ান্টাম কম্পিউটারেও কাজ করতে সক্ষম, যা এখনো পুরোপুরি নিখুঁত নয়। দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রযুক্তি রোবটকে রিয়েল-টাইমে নিয়ন্ত্রণ, বাধা এড়ানো এবং শক্তি সাশ্রয়ের মতো জটিল কাজ করতে সাহায্য করবে।


