মানবদেহে রক্তের প্রচলিত আটটি গ্রুপের বাইরে আরও বহু বিরল রক্তের ধরন রয়েছে। এর মধ্যে নতুন একটি রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা, যা মানুষের রক্তের মোট গ্রুপের সংখ্যা বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯–এ। নতুন এ গ্রুপের নাম B(A)। এখন পর্যন্ত বিশ্বের মাত্র তিনজন মানুষের শরীরে এই রক্ত পাওয়া গেছে।
থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে রোগী ও রক্তদাতাদের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়েই নতুন রক্তের ধরনটি প্রথম ধরা পড়ে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন এই রক্তের গ্রুপে মূলত B অ্যান্টিজেন থাকে, তবে এতে অল্পমাত্রায় A অ্যান্টিজেনও রয়েছে। এ রক্ত পাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন রোগী, বাকিরা দুজন রক্তদাতা।
রক্তের অ্যান্টিজেন—যা শরীরে কোনো বিদেশি উপাদান প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সতর্ক করে— এর ওপর ভিত্তি করেই ABO রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয়। অ্যান্টিজেনের এই গঠন রক্তদান ও রক্তগ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রক্তের অ্যান্টিজেনে অমিল হলেই শরীর নতুন রক্তকে প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণে O নেগেটিভ রক্তকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।
অত্যন্ত বিরল রক্তের গ্রুপের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত ছিল Rh-null, যাকে “গোল্ডেন ব্লাড” বলা হয়। মাত্র ৫০ জন মানুষের দেহে এই রক্ত পাওয়া যায়। এ বছর আরও একটি বিরল রক্তের পরিব্যাপ্তি “Gwada negative” শনাক্ত হয়, যা পৃথিবীতে মাত্র একজনের শরীরে আছে।
নতুন আবিষ্কৃত B(A) রক্ত নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা জানান, এই রক্তের গ্রুপটি চারটি বিশেষ জিন-মিউটেশনের কারণে তৈরি হয়েছে, যা আগে পরিচিত কোনো জিন–ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে মেলে না। এ ধরনের জিনগত পরিবর্তন বিশ্বের আরও মানুষের মধ্যেও থাকতে পারে, তবে তা এখনো শনাক্ত হয়নি।
গবেষকেরা মনে করছেন, মানুষের রক্তের ধরন ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা। নতুন এই রক্তের সন্ধান সেই সম্ভাবনাই আরও শক্তিশালী করল। সূত্র: ইয়াহু
মেহেদী/


